কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৮ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ১৯৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। আর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮০০০ মেট্রিক টন।
অনুকূল পরিবেশ,সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় মাঠে, মাঠে আমন ফলেছে আশানুরূপ। ফলে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। বর্তমানে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে সোনালি ধান ইতোমধ্যে কাটতে শুরু করছেন প্রান্তিক কৃষকরা। আমনের ফলন ভালো হওয়ায় চলতি বছরও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,এমনটাই নিশ্চিত করেছেন কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে দেখা যায়,চকরিয়ার গ্রামে গ্রামে এখন নতুন আমন ধানের গন্ধে নবান্নের সাজ,সাজ রব। সকাল থেকে শুরু করে পড়ন্ত বিকেল পর্যন্ত ফসল কর্তনের চিরাচরিত দৃশ্য এখন সর্বত্র।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,চলতি মৌসুমে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে উপশী জাত,২ হাজার ৫৫০হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষাবাদ করা হয়।
উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসূলাবাদ এলাকার কৃষক সাকের উল্লাহ তার সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান,এ বারের ফসল খুবই ভালো হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় ফলন অনেক বেশি। আবহাওয়া ভালো থাকায় কোনো ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণও হয়নি। আল্লাহর রহমতে আমি খুব খুশি।
উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মিনি বাজার এলাকার কৃষক আকতার আহমদ বলেন,ধানের ছড়ায় মাঠ ভরে গেছে। সোনা–রঙের মাঠভর্তি ধানখেত দেখে প্রাণটা জুড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন,আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কর্মকর্তা মো.মহিউদ্দিন বলেন,ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে চাষের শুরুতেই কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা মোতাবেক কৃষকেরা গুটি ইউরিয়া ও এলসিসি পদ্ধতি অনুসরণ করে আমন চাষাবাদ শুরু করে। এই পদ্ধতিতে চাষ করলে কৃষকেরা ভাল ফলন ঘরে তুলতে পারে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন,চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত চলতি মৌসুমে উপজেলার ৭৮২০ হেক্টর জমিতে ধান কাটা শেষ হয়েছে। অনুকুল আবহাওয়া,কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে সার,বিজসহ কৃষি উপরকরণ বিতরণ এবং কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও তদারকির কারণে কৃষকরা ধান চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।


