স্বপ্নের ডানা মেলছে বরিশালের নদী বেষ্টিত কয়েক লাখ মানুষের
বরিশাল : বহুল প্রত্যাশিত বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর-বাবুগঞ্জ-মুলাদী-হিজলা সড়কের (জেড-৮০৩৪) ৮ম কিলোমিটার আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি অন্যতম বড় বাধা—এ বিষয়টি সামনে এনে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দুই উপদেষ্টা উন্নয়ন প্রকল্প সঠিক ও নির্ভুলভাবে বাস্তবায়নে জনগণকে সক্রিয়ভাবে তদারকির আহ্বান জানান।
সেতুটি নির্মিত হলে বরিশালসহ বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে চারটি উপজেলা বাবুগঞ্জ-মুলাদী-হিজলা-মেহেন্দি গঞ্জ অঞ্চলের যাতায়াত আরও সহজ হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে এবং মেঘনা পারের মানুষগুলোর নদী পারাপারের ভোগান্তি থেকে হাজারো মানুষ মুক্তি পাবেন বলে স্থানীয়রা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ‘কেবল স্ট্রেইট এক্সট্রা ডোজ’ টাইপের সেতুটি নির্মা এক হাজার ৭২ কোটি টাকার দরপ্রস্তাব ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রাক-যোগ্যতা সম্পন্ন সাতটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের দরপ্রস্তাবসমূহ যাচাই-বাছাই এবং আর্থিক মূল্যায়ন শেষে মন্ত্রণালয় হয়ে উপদেষ্টা পরিষদের ক্রয় কমিটির বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়।
এক হাজার ৭২ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ মীরগঞ্জ সেতুটি আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর তৃতীয় সেতু। অন্য দুটি সেতু ঢাকা-ভাঙা-বরিশাল মহাসড়কের শিবচর এবং চাঁদপুর-শরীয়তপুর-মাদারীপুর মহাসড়কে অবস্থিত। মীরগঞ্জ সেতুটি নির্মিত হলে বরিশালসহ সারা দেশের সাথেই বিচ্ছিন্ন উপজেলা মুলাদী ও হিজলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী মেহেন্দিগঞ্জের সড়কপথ অনেকটাই নির্বিঘ্ন হবে।
এক হাজার ৪৮৪ মিটার দীর্ঘ মীরগঞ্জ সেতুটি দৃশ্যত চট্টগ্রাম দ্বিতীয় কর্ণফুলী সেতু ও বরিশালের পায়রা সেতুর আদলে নির্মিত হবে। সেতুর মূল অংশ দুটি এবাটমেন্ট ও এবং ১৭৫ মিটারের দুটি ও ৯৭ মিটারের দুটি পিয়ারসহ ৫৪৪ মিটার। সংযুক্ত ভায়াডাক্ট ৯৪০ মিটার। সেতু ও ভায়াডাক্টসহ মোট পিয়ারের সংখ্যা থাকছে ৩০টি। সেতুটির দুই প্রান্তে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মিত হবে।
নির্মাণের পরে খরস্রোতা আড়িয়াল খাঁ নদের সম্ভাব্য যে-কোনো ঝুঁকির হাত থেকে সেতুটি রক্ষায়, ৪৬০ মিটার নদীতীর রক্ষা কাজে ৯৬ দশমিক ৬১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ছাড়া সেতুটির প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে ২১ দশমিক ৫৫ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ ৯৩ দশমিক ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও তার আলোকে প্রণীত অ্যাপ্রাইজাল রিপোর্টে সেতু সংযুক্ত সড়কটিতে বার্ষিক যান চলাচলের হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক গড়ে প্রায় আড়াই হাজার যানবাহন চলাচল করছে। যা প্রতিবছর গড়ে ১০ শতাংশ করে বাড়বে।


