চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অবাধে পাহাড়-টিলা কাটা হচ্ছে । পরিবেশ অধিদপ্তরসহ স্থানীয় প্রশাসনের ফাঁকি দিয়ে উপজেলার অন্তত ১০টি স্থানে এই চিত্র দেখা গেছে । এসব টিলার মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটা ও ভবনের জায়গা ভরাটের কাজে। রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে গড়ে ওঠা একাধিক সিন্ডিকেট দিনের পরিবর্তে রাতে এসব মাটি ডাম্প ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার হারুয়ালছড়ি, নারায়ণহাট, দাঁতমারা, বাগানবাজার, নানুপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় এক্সকাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে টিলার মাটি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের আঁধারমানিক এলাকায় লাল মাটির টিলা কেটে সাবাড় করা হয়েছে। এ ছাড়া বাগান বাজার ইউনিয়নের নতুন বাজার ও নানুপুর ইউনিয়নের কিপাইত নগরে বাধ্যটিলা এলাকা ঘুরে দেখা মেলে পরিবেশ ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র।
হারুয়ালছড়ির বাসিন্দা নুরুল আলম জানান, রাত ১০টায় এক্সকাভেটর দিয়ে তাঁদের মাটি কাটা শুরু হয়ে ভোর পর্যন্ত চলে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছেন। এ কাজে তাঁদের সহায়তা করে থানা পুলিশ। যার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ার নামে অভিযান চালায়। সেই খবর আগাম পেয়ে নিরাপদে সটকে পড়েন সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
চট্টগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের রিসার্স অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘কর্তনকৃত এসব স্থান পরিদর্শন করে শিগগিরই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন ধরেই মাটিকাটা কিংবা বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযানে গেলে অপরাধীদের ধরা যাচ্ছিল না। পরিবহন বা কর্তনের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ঘটনাস্থলে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বুঝা যায় যে, কিছুক্ষণ পূর্বেও মাটি কর্তনকারীরা ঘটনাস্থলে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এতে সন্দেহ হয় যে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে কেউ নজর রাখছে এবং অভিযানের খবর অপরাধীদের কাছে পূর্বেই পৌঁছে দিচ্ছে। সন্দেহ আরও দৃঢ় হয় যখন কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যার পরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের আশেপাশে কিছু অপরিচিত লোকজনকে ঘুরঘুর করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে আরও কিছু ঘটনায় এটি মোটামুটি নিশ্চিত হতে পারা যায়। এর প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে অপরাধীকে আটক করা হয়।
আটক অপরাধী স্বীকার করে যে, তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নজরদারি করেন এবং মাটি কর্তনকারীদের কাছে অভিযানের তথ্য পৌঁছে দেন। এর বিনিময়ে প্রতিরাতে ৫’শ টাকা করে পান। এমন অপরাধ আমার সম্মুখে উদ্ঘাটিত হওয়ায় আসামি মো. দিদারুল আলমের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দণ্ডবিধি-১৮৬০ অনুযায়ী তাকে ৭ (সাত) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পাহাড়কাটাসহ সবধরনের অপরাধের বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ক্যাপশন-চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের আঁধারমানিক এলাকায় লাল মাটির টিলা রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হচ্ছে ।


