গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান বলেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (অটিস্টিক) শিশুকে আমরা বোঝা মনে করি। গ্রামে এদের নিয়ে অনেক কুসংস্কারও চালু আছে। তাই পরিবারে অটিস্টিক শিশু থাকা মানে হীনমন্যতায় ভোগা। তাদেরকে অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। আমাদের একটু সচেতনতার অভাবে এদের স্বাভাবিক বিকাশটা ব্যাহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা একটু সচেতন হলে তাদের মাঝে খুঁজে পেতে পারি অপার সম্ভাবনা। সঠিক পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এই শিশুরা সমাজের বোঝা না হয়ে তাদের প্রতিভার মাধ্যমে অবদান রাখতে পারে সমাজ বিনির্মাণে। কোনো ভাবেই তাদেরকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। আসুন আমরা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের প্রতি যত্নশীল হই।
রবিবার (২২’ফেব্রুয়ারি) গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আনন্দ উৎসব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। জেলা প্রশাসক মো.আরিফ-উজ-জামান বলেন,বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ও অটিষ্টিক শিশুরা সমাজের বোঝা নয়। এরা আমাদের সমাজের অংশ। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের প্রতিভা রয়েছে। সচরাচর অনেক শিশুর মাঝে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে অতি পারদর্শীতার পরিচয় মেলে। যেমন- কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, মিউজিক, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ছবি আঁকা, খেলাধুলায় পারদর্শীতা ইত্যাদি। এরা অনেক ক্ষেত্রে মৌখিকভাব বিনিময়ে উৎসাহী না হলেও বিকল্প ভাব বিনিময় কৌশল শিখিয়ে দিলে সহজেই অন্যদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ করতে পারে। এজন্য দরকার পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশি, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সচেতনতা এবং সহযোগিতা। বিকাশের প্রারম্ভিক পর্যায়ে যদি এদের চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তারা শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক জীবনে অনেক অবদান রাখতে পারে।
তিনি বলেন, তিনি বলেন সরকারের পাশাপশি সমাজের বিত্তবানদের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। তাদেরকে খেলাধুলা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের আদর, যত্ন ভালোবাসায় সমাজের মূলধারার সাথে নিয়ে আসতে হবে। ওদের মধ্য থেকে লুক্কায়িত প্রতিভা খুঁজে তার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। পরিবার, সমাজ, চারপাশের প্রতিবেশীর দায়িত্বশীল আচরণ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আন্তরিকতা, স্নেহ, মায়া মমতার মাধ্যমে গড়ে উঠতে পারে এসব শিশুদের জন্য শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ।
এমন আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন শিশু শিক্ষার্থীরা। এতে শিশুদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। পরে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া সকল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরন করেন গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা ক্রীড়া অফিসের কর্মকর্তা ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


