অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ফলে দেশে প্রতিবছর বহু মানুষ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও অন্ধত্বের শিকার হচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডি) কর্মসূচীর উদ্যোগে ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় হৃদরোগে মৃত্যুহার কমাতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জেলার সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্ণার থেকে এ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ৪টি এনসিডি কর্ণার থেকে ১১ হাজারের বেশি রেজিস্টার্ড রোগী সেবার আওতায় এসেছে এবং এ সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।
সরকারের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সামনে এনসিডি কার্যক্রম তুলে ধরতে সিভিল সার্জন আফিসে দুপুর ২ টায় এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
জেলা সিভিল সার্জন ডা: মো: আল মামুন কর্মশালার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ প্রোগ্রামের ডিভিশনাল প্রোগ্রাম অফিসার খোন্দকার এহসানুল আমিন ইমন, সার্ভিলেন্স মেডিকেল আফিসার ডা. রাজত চৌধুরী সায়ের, জয়পুরহাটের এমওসিএস ডা. জুবায়ের মো: আল ফয়সাল প্রমূখ।
সিভিল সার্জন ডা: মো: আল মামুন বলেন, হৃদরোগ জনিত মৃত্যুহার এক চতুর্থাংশ কমিয়ে ২৫ শতাংশ, উচ্চ রক্তচাপের ব্যাপকতা কমিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে আসা এবং একইসাথে লবণ ব্যবহারের হার ২৫ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজশাহী বিভাগের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা, পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করছে।
এদেশে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপের রোগী পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই কর্নারগুলো থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সকলকে আধুনিক ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে রক্তচাপ পরিমাপ করা হচ্ছে এবং সকল রোগীর তথ্য ‘সিম্পল অ্যাপস’ ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং তাদের উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের হার মনিটরিং এর কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, অসংক্রামক রোগ সারা বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশ্বে প্রতিবছর ৪ কোটির বেশি মানুষ অসংক্রামক রোগে মৃত্যুবরণ করেন, এই হার মোট মৃত্যুর ৭৪ ভাগ। নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে এই হার আরও বেশি। আমাদের দেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর ৩৪ ভাগ সংঘটিত হয় হৃদরোগে। ধূমপান ও তামাক বা তামাকজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার, এলকোহল বা মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম না করার বিষয়গুলো এনসিডি জনিত দুই তৃতীয়াংশ মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত। বিশ্বায়ন ও নগরায়নের ফলে বায়ুদূষণ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনচারণের পরিবর্তনের ফলে অধিক মাত্রায় মানুষ অসংক্রামক রোগে বিশেষত উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের শিকার হচ্ছেন। এই কর্মসূচীর মাধ্যমে মানুষের জীবনচারণ পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য পরামর্শ প্রদান করা হবে।
এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ৪৮ তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।


