নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ. জি. এম. সেলিমকে ঘিরে ফের তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে প্রশাসনবিরোধী কর্মকাণ্ড, সহকর্মীদের হেনস্তা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক অভিযোগে আলোচিত এই কর্মকর্তা আবারও নতুন করে শিরোনামে এসেছেন।
২০২৫ সালের ১৪ মার্চ চউকের চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে তার উচ্চস্বরে গালাগালি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কাঠামোকে কাঁপিয়ে দেয়। উপস্থিত ছিলেন চউকের সচিব এবং এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, যাঁরা প্রত্যক্ষ করেন তার আচরণ। এ ঘটনা সামনে আসতেই চউকের ভেতরে এবং বাইরে উত্তপ্ত আলোচনার সৃষ্টি হয়।
তবে এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০০৭ সালেও এ. জি. এম. সেলিমকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও প্রশাসনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সেই সময় তিনি চউক বোর্ডের একটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে একাধিক দপ্তরে চিঠি পাঠান এবং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনায় লিপ্ত হন।
এরপর ২০১৩ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যানকে দুর্ব্যবহার করায় তাকে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে বদলি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বদলি কিংবা শাস্তি কোনো কিছুতেই তার আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং পরবর্তীতে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
সম্প্রতি ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন ধারা চউকে জোরদার হচ্ছিল, তখন সেলিম সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিয়োগ বিধির বাইরে গিয়ে ‘ইমারত নির্মাণ কমিটির’ মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজের দখলে নেন। অথচ চাকরির বিধান অনুযায়ী, চলতি দায়িত্ব কেবল স্থায়ী পদের বিপরীতে দেওয়া যায়, যা এই নিয়োগকে আইনত প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে সহকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো, দায়িত্ব এড়িয়ে চলা, অফিসে তালা লাগিয়ে অনুপস্থিত থাকা, এবং বারবার প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য করা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। চউকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই কর্মকর্তার লাগামহীন আচরণে কর্মপরিবেশ ভেঙে পড়েছে। সিনিয়র কর্মকর্তারাও অসহায় হয়ে পড়েছেন। এমনকি চেয়ারম্যানকেও নিয়মিতভাবে অপমানের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে এখন জোরালোভাবে দাবি উঠেছে, শুধু ব্যক্তিগত আচরণ নয় পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্মান, শৃঙ্খলা এবং কার্যক্রম রক্ষার্থে এ. জি. এম. সেলিমের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তা না হলে চউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান বারবার চরম অস্থিতিশীলতার মুখে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে চট্টগ্রাম শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও।


