সর্বশেষ

চট্টগ্রামে ইয়াবা ব্যবসাকে পুঁজি করে স্বামী-স্ত্রী’র সম্পদের পাহাড়

চট্টগ্রামে ইয়াবার টাকায় কোটিপতি বনে যাওয়া রূপন চৌধুরী ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা চৌধুরী এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবার টাকায় অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া একাধিক মামলা থাকলেও প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দাপটের সাথে ইয়াবা ব্যবসা করছে।

রুপন চৌধুরীর বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে রুপন ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা চৌধুরীর ঠিকানা রাঙ্গামাটি পৌরসভা উল্লেখ আছে। বাসা চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানার মধ্যম নাথপাড়া এলাকায়।

জানাগেছে, ২০১৯ সালের ৭ জুলাই নগরীর খুলশী থানার হলি ক্রিসেন্ট মোড়ের বাস্কেট সুপারের সামনে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গিয়ে সন্দেহবশত রুপন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছিল পিবিআই মেট্রো। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে দেখা যায়, রুপন পর্দার আড়ালে থাকা একজন ইয়াবা গডফাদার। মাদকের ১২টি মামলার আসামি। বিপুল অর্থবিত্তের মালিক রুপনের আয়-ব্যয় ও সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) একটি চিঠি দেয় পিবিআই।

সেই চিঠির ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে দুদক রূপন ও তার স্ত্রীর প্রায় চার কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পান। যার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেনি তারা। ওই বছরের ১৮ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মালেক বাদী হয়ে মামলা দু’টি দায়ের করেন। এর মধ্যে একটি মামলায় তার স্ত্রী সন্ধ্যা চৌধুরীকেও আসামি করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, পিবিআইয়ের দেওয়া চিঠির ভিত্তিতে দুদকের পক্ষ থেকে ২০২০ সালে রুপন ও সন্ধ্যা চৌধুরীকে সম্পদের বিবরণী জমা দেয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। উভয়ে সম্পদ বিবরণী জমা দিলে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

দুদকের এজাহারে উল্লেখ আছে, সম্পদ বিবরণীতে রুপন নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার কুলগাঁও এলাকায় জমি ও শ্যামলছায়া আবাসিক এলাকায় একটি ফ্ল্যাটসহ ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে কুলগাঁও এলাকায় দুইতলা বাড়ি ও শ্যামলীতে ফ্ল্যাটসহ ৯৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৩৯ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পায় দুদক। দুই লাখ অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে তার নামে ২৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫২০ টাকার সম্পদের তথ্য পায় দুদক।

দুদক অনুসন্ধানে রুপনের ১ কোটি ২২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৯ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায়। সেইসঙ্গে ৭০ লাখ ৬০ হাজার টাকা পারিবারিক ব্যয়ের তথ্যও পাওয়া যায়। এ হিসেবে তার সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৫৯ টাকা। বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৩১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এক কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার ৯৫৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অবৈধভাবে উপার্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। দুদক আইনের ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় মামলাটি দায়ের হয়েছে।
এদিকে, সন্ধ্যা চৌধুরী তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে নগরীর দক্ষিণ কাট্টলীতে ২ দশমিক ৮৭ একর জমির ওপর চারতলা বাড়ির দামসহ ৫০ লাখ ৯০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। কিন্তু দুদক অনুসন্ধানে স্থাবর সম্পদের মূল্য পায় দুই কোটি ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮০ টাকা। সন্ধ্যার ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণার বিপরীতে দুদক ৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৮২ টাকার সম্পদের তথ্য পায়।

স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সন্ধ্যা চৌধুরীর সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ১৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৩০ টাকা। বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায় ১৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকার। এক কোটি ৯৮ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সন্ধ্যা এবং তার স্বামী রুপনকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে। দুদক আইনের ২৬ (২) ও ২৭ (১) এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলাটি দায়ের হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রূপন চৌধুরী একজন বড় মাপের ইয়াবা পাচারকারী। তার বিরুদ্ধে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটিসহ বিভিন্ন থানায় ইয়াবা পাচারের অভিযোগে ১২টি মামলা রয়েছে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে রূপন চৌধুরী কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাচার করে। তার রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিভিন্ন সময় তার সহযোগীরা গ্রেফতার হলেও পরে টাকার বিনিময়ে সে জেল থেকে জামিনে বের করে নিয়ে আসে।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা