কক্সবাজারের রামুতে একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশার চারজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার ২ আগস্ট দুপুরে রামুর একটি রেলক্রসিংয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজারগামী সৈকত এক্সপ্রেস ট্রেনটি রামু উপজেলার এক অরক্ষিত রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় একটি সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন যাত্রীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় সিএনজিতে আরও যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র।
রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় সিএনজি চালক সিগন্যাল উপেক্ষা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদন্ত পরিচালনা করছে।
এই ঘটনায় আবারও অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল এলাকায় কোনো গেটম্যান বা অটোমেটিক সংকেত ব্যবস্থা ছিল না। তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “প্রায়ই এই রেলক্রসিংয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা বহুবার রেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু তারা ব্যবস্থা নেয়নি। আজ চারজনের প্রাণ গেল, এরপরও যদি কিছু না হয়, তবে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।”
রামুর এই দুর্ঘটনা কেবল চারটি তাজা প্রাণ কেড়ে নেয়নি, বরং আবারও দেশের রেলক্রসিং ব্যবস্থার দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। প্রয়োজন দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং রেল ও সড়ক যোগাযোগের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা।


