ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, বরিশালের শপিং মল ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে কেনাকাটার ধুম তত বাড়ছে। আজ ১৯ রমজান, শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় এখন সরগরম পুরো বরিশাল নগরী। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চকবাজার, লাইন রোড এবং ফজলুল হক এভিনিউয়ের মতো বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।
এমনকি মহসিন মার্কেট ও সিটি মার্কেটে তিল ধারণের জায়গা নেই বরিশালের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় পাইকারি ও খুচরা বাজার মহসিন মার্কেটে এখন সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের প্রধান ভরসাস্থল এই মার্কেটে সব বয়সীদের পোশাক পাওয়া যাওয়ায় এখানে ভিড় সবচেয়ে বেশি।
এছাড়া পাশেই সিটি মার্কেটের নামী-দামি ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতেও ক্রেতারা ভিড় করছেন।
মহসিন মার্কেটের এক কাপড় বিক্রেতা জানান, ১৯ রমজান উপলক্ষে আজ বিক্রি গত কয়েকদিনের তুলনায় অনেক বেশি। পাঞ্জাবি, শাড়ি ও বাচ্চাদের তৈরি পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দম ফেলারও সময় পাচ্ছি না আমরা।
সিটি কর্পোরেশনের সামনের ফুটপাতে জমজমাট বেচাকেনা বিপণিবিতানের পাশাপাশি এবারও ঈদের বাজার জমে উঠেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সামনের ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ মার্কেটগুলোতে। স্বল্পমূল্যে ভালো মানের পোশাক, জুতা ও বেল্ট পাওয়ায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরাও এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। ভ্রাম্যমাণ এই দোকানগুলোতে দরদাম করে পছন্দের পণ্য কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা।
ফুটপাতের এক বিক্রেতা বলেন, মার্কেটে দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ আমাদের কাছেই বেশি আসছে। বিশেষ করে টি-শার্ট ও গেঞ্জির চাহিদা এবার খুব ভালো।
নজরদারি ঈদের এই মহাব্যস্ততার সুযোগে যাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মূল্য আদায় করতে না পারে, সে জন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বিশেষ করে মহসিন মার্কেট ও ফুটপাতের দোকান গুলোতেও তারা নিয়মিত নজরদারি রাখছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমরা রমজান ও ঈদ উপলক্ষে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করেছি। প্রতিটি দোকানে মূল্য তালিকা যাচাই করা হচ্ছে। কোনো বিক্রেতা যদি ঈদের অজুহাতে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের চেষ্টা করেন বা ক্রেতাদের রসিদ ছাড়া পণ্য বিক্রি করেন, তবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক মাঠে আছে।
নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শহরের ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণ এবং ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পকেটমার বা ছিনতাইকারীর হাত থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে প্রতিটি বড় মার্কেটের সামনে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


