সর্বশেষ

চট্টগ্রামে ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পে বাধা : ব্যক্তিগত রাস্তা দাবি করে হুমকি, তদন্তে উঠে এলো ভিন্ন সত্য

এস এম আরজু, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম শহরকে স্বাস্থ্যকর ও আধুনিক নগরী করতে ওয়াসা পরিচালিত সুয়ারেজ লাইন স্থাপনের পাইলট প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি হয়েছে নগরীর মনছুরাবাদ পশ্চিম পাড়া এলাকায়। স্থানীয় সারোয়ার আলম জুয়েল নামে একজন ব্যক্তির হুমকি ও আধিপত্যের কারণে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ওয়াসার প্রকল্প কর্মীরা জানান, পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করতে গেলে জুয়েল তাদের কাজ বন্ধ করে দেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। জুয়েল দাবি করেন, প্রকল্পের কাজ যে সড়ক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল সেটি নাকি তার ব্যক্তিগত রাস্তা এ কারণে সেখানে কোনো সরকারি কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।

ঘটনা জানানো হলে প্রকল্প পরিচালক একজন প্রকৌশলীসহ প্রায় ছয় সদস্যের দল নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় জুয়েলকে কল করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান “রাস্তা আমার ব্যক্তিগত, কোর্ট এসে আমাকে বুঝিয়ে দিক।”

তবে মাঠপর্যায়ের যাচাই ও নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, সড়কটি কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন নয়, এটি এজমালি বা জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা। ২০১২ সালে আদালতের একটি আদেশেও রাস্তার জনপথ হিসেবে অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, ২০০৯ সালে জুয়েলের মা রাস্তা নিজের সম্পত্তি দাবি করে ১৪৫ ধারায় মামলা করেছিলেন কিন্তু তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তে রাস্তা জনপথ বলেই উল্লেখ করা হয়। তবুও দীর্ঘ এক যুগ পরও পরিবারটি রাস্তা দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাস্তা ব্যবহার করতে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন জুয়েল। যদিও পরে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এক পাটির নেতা রুবেলের নামও উঠে এসেছে। জানা যায়, তিনি সুয়ারেজ প্রকল্পের স্থানীয় কন্ট্রাক্টর হওয়ায় জুয়েলের দৌরাত্ম বাড়ছে বলে অভিযোগ। রাস্তা জবরদখল ও বাধার কারণে এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মনছুরাবাদ পশ্চিম পাড়ার মির্জা বাড়ি কবরস্থানে যাতায়াতের একমাত্র পথ হওয়ায় মরদেহ পর্যন্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই এলাকায় যে যেভাবে ইচ্ছা বিল্ডিং বানিয়েছে। সিডিএর কোনো অনুমোদনের ছাপ নেই। আর জুয়েল তো নিজের ইচ্ছামত সবকিছু করছে একে থামানোর শক্তি কারো নেই।”

প্রকল্প পরিচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, “কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব বাধা দিয়ে থাকে। তবে আমরা নির্ধারিত পরিকল্পনামাফিক প্রতিটি বাড়িকে সুয়ারেজ লাইনে যুক্ত করব। প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

সিএমপির এক সহকারী পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, “সরকারি কাজে বাধা প্রদানের বিষয়ে অভিযোগ পেলে ছাড় দেওয়া হবে না। সুয়ারেজ প্রকল্প সরকারি প্রকল্প, তাই বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

একজন আইনজীবী জানান, সরকারি কাজে বাধা, হুমকি ও বিশৃঙ্খলা তৈরির মাধ্যমে জুয়েল একাধিক দণ্ডবিধির ধারা ৩৩৯, ৩৪৯, ৩৫০, ৩৭৭, ৪০৩, ৪২৫, ৪৬৩, ১০৭, ১২০ক, ১৯১ লঙ্ঘন করেছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা