সর্বশেষ

রাউজানে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রবাসী যুবদল কর্মী নিহত 

গাজী জয়নাল আবেদীন, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের রাউজানে গ্রুপিংয়ের জেরে কমর উদ্দিন টিটু (৩৬) নামে সৌদি আরব প্রবাসী এক যুবদল কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ১৫ মার্চ (শনিবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশের উপপরিদর্শক মোঃ আলাউদ্দিন তালুকদার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার লাশ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশঘরে রয়েছে।

নিহত কমর উদ্দিন টিটু (৩৬) রাউজান উপজেলা হলদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্তের উত্তর সর্তা গ্রামের মনু পেটান তালুকদার বাড়ির হাজী মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাউজান থানাধিন হলদিয়ার আমিরহাট বাজারে ব্যবসায়ী সমিতির অফিসে বসা ও একটি পোস্টার নিয়ে সমালোচনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কমর উদ্দিন নামের একজন আহত হয়। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান হতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আমরা এতটুকু তথ্য পেয়েছি। এখন (শনিবার রাত ১২ টা ৫০ মিনিট) ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। পরে তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।

নিহতের ভাবী (বড় ভাইয়ের স্ত্রী) আঞ্জুমান আরা লাকী বলেন, আজ (শনিবার) ইফতার শেষে এশারের আজানের সময় কমর উদ্দিন ঘর থেকে বের হয়। কিছুক্ষণ পূর্বে শুনি তাকে কারা মেরেছে। হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। এখন শুনতেছি মারা গেছে। তিনি আরো বলেন, কমর উদ্দিন সৌদি আরব প্রবাসী। গত ৩ মাস পূর্বে ছুটিতে দেশে আসেন। ঈদের পরে সৌদি আরবের জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তার দুটি ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে প্রতিবন্ধি।

জানা যায়, কমর উদ্দিন টিটু হলদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। তিনি স্থানীয় যুবদল নেতা জামাল উদ্দিন তালুকদারের অনুসারী ছিলেন। এই বিষয়ে জামাল উদ্দিন তালুকদার বলেন, উপজেলা বিএনপি’র সদস্য মহিউদ্দিন জীবন ও তার অনুসারীরা যুবদল কর্মী কমরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। টিটুকে ছুরিকাঘাত পরবর্তী মাথায় আঘাত করায় মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার হলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক নেতা মঈনুদ্দিন বিপুল বলেন, হঠাৎ আমির হাট বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ব্যানার ঝুলছে। এই সময় ব্যবসায় সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ডেকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান মহিউদ্দিন জীবন তাদের বাজারের দায়িত্ব দিয়েছে। এটা নামানোর কথা বলে নি। তাদের একজন বাইরে গিয়ে ফোন করে দিলে মহিউদ্দিন জীবন, নুটুল আলম তালুকদার, খোরশেদ, রাশেদ, নয়নসহ ২০-৩০ জনের একটা দল এসে আমাদের ধরে মারধর করেন। এই সময় মহিউদ্দিন জীবন কমরের কলার ধরে নুরুদের বলেন তাকে তখন তারা সকলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

এদিকে ঘটনার ৫ ঘণ্টা পূর্বে নিহত কমর উদ্দিন তার ফেসবুকে মহিউদ্দিন ও নুরুল আলম কটাক্ষ করে হলদিয়ার মাটি কাটা, কৃষিজমি ভরাট নিয়ে স্ট্যাটাস দেন।

অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপি’র সদস্য ও হলদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মহিউদ্দিন জীবনকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আজ আমি রাউজান উপজেলা সদরে দলীয় ইফতার মাহফিলে ছিলাম। যে ছেলেটি মারা গেছে সে নেশা করতো। শুনেছি আগের রাতে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হলদিয়ায় আমিরহাট বাজারে প্রতিপক্ষকে ছুরিকাঘাতসহ একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ প্রতিপক্ষের পিটুনিতে নিহত হন প্রবাসী যুবদল কর্মী কমর উদ্দিন টিটু। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা যায়।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা