চট্টগ্রামের শ্রীঙ্গন খ্যাত বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী ঋষিধামে অনুষ্ঠিতব্য দেশের সর্ববৃহৎ সনাতনী ধর্মীয় সমাবেশ দ্বাবিংশতম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে বাঁশখালী অফিসার্স ক্লাব হল রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জামশেদুল আলম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানী আকন, বাঁশখালী আর্মি ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন আবু সায়েদ রাইয়ান, বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খালেদ সাইফুল্লাহ, বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তৌফিকুল আলম, পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম মো. আতিকুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান, ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট অনুপম বিশ্বাস, সদস্য সচিব লায়ন চন্দ্রশেখর মল্লিক, অর্থ সম্পাদক তড়িৎ গুহ, কালীপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম, ঝুন্টু কুমার দাশ। এ ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য, ঋষিধাম সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মেলা চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, যানবাহন চলাচল ও দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে আগত সাধু-সন্ন্যাসী ও ভক্তবৃন্দের নিরাপদ অবস্থান ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে একটি সুসমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের শ্রীঙ্গন খ্যাত বাঁশখালীর ঋষিধামে অনুষ্ঠিতব্য এ ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা দেশের সর্ববৃহৎ সনাতনী ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে পরিচিত। আগামী ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ৮টায় বাঁশখালীর ঋষিধাম প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করা হবে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী ও দর্শনার্থীদের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। মেলাকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।


