সর্বশেষ

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের দাবি তরুণদের

DCV Desk

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধি করার দাবিতে আজ (২৮ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর ঢাকা আহছানিয়া মিশনের অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে তামাকজাত পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে তরুণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে, যা দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮ শতাংশেরও বেশি। এই অকাল মৃত্যু রোধে তামাকপণ্যকে তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়া জরুরি, আর তা সম্ভব কার্যকর করারোপের মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধি করলেই।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, তামাক খাত থেকে সরকারের বার্ষিক রাজস্ব আয় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা হলেও তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা রাজস্ব আয়ের তুলনায় প্রায় ১১৫ শতাংশ বেশি। এই আর্থ-সামাজিক ক্ষতি কমাতে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের কোনো বিকল্প নেই।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তুলনায় তামাকদ্রব্য তুলনামূলকভাবে সস্তা। মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না হওয়ায় এসব পণ্য তরুণদের নাগালের মধ্যেই থেকে যাচ্ছে। ফলে তামাক ব্যবহার হ্রাসে কার্যকর প্রভাব পড়ছে না।

ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেট মারজানা মুনতাহা বলেন, সিগারেটের চার স্তরের মূল্য কাঠামোর কারণে নিম্নমূল্যের সিগারেট সহজলভ্য হয়ে তরুণদের তামাক ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। তিনি প্রস্তাব করেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা উচিত। পাশাপাশি সকল স্তরে ৬৭% সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবি জানান।

ইয়ুথ ফোরামের আরেক সদস্য তাসনিয়া তানজিম সারা বলেন, প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লক্ষাধিক তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। এর ফলে প্রায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৩৩৫ জন তরুণের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, এই কর কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি তামাক কর রাজস্ব অর্জন করতে পারবে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। অতিরিক্ত এই রাজস্ব স্বাস্থ্যখাত উন্নয়ন ও তামাকজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা