নিউজ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্য দিয়ে উপকূল অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এটি স্থলভাগে এসে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়লেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাবে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং ঝোড়ো বাতাস বয়ে চলেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিম্নচাপটি এখনো স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে রয়েছে এবং ধীরে ধীরে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক শুক্রবার সকাল ৭টায় জানান, এই নিম্নচাপের কারণে দেশের অনেক জেলায় দিনভর বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও সকাল থেকে মেঘলা আকাশ ও ঝিরঝির বৃষ্টির দেখা মিলেছে, যা সারাদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, গভীর নিম্নচাপের পরবর্তী সময়ে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শনিবার ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকার অনেক অঞ্চলে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার, এমনকি ৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
উত্তাল বঙ্গোপসাগরে আছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ, জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট বেশি হওয়ায় নোয়াখালী, কুয়াকাটা, ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এই অবস্থায় উপকূলবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বরিশাল নৌবন্দর থেকে সব রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানিতে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দেওয়ায় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং উপকূলবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেছে।


