আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার চান দেশের ৫১ শতাংশ মানুষ। আর ভোটে কাকে সমর্থন দেবেন এ প্রশ্নে ৪৮.৫ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন।
সোমবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় আর্কাইভ মিলনায়তনে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) ও ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘বিআইজিডি পালস সার্ভে: জুলাই ২০২৫’ প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
জরিপে দেখা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিএনপির প্রতি সমর্থন ছিল ১৬.৩%, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নেমে এসেছে ১২%-এ। আওয়ামী লীগের সমর্থন ৮.৯% থেকে কমে ৭.৩%-এ দাঁড়িয়েছে। জামায়াতের জনপ্রিয়তা ১১.৩% থেকে ১০.৪%-এ নেমেছে। অপরদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২% থেকে বেড়ে ২.৮%-এ পৌঁছেছে। জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের জনপ্রিয়তাও কমেছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭০% বিশ্বাস করেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। তবে ৫১% চান নির্বাচন আগে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, ১৭% চান আংশিক সংস্কার। নির্বাচনের সময় নিয়ে মতভেদ রয়েছে ৩২% চান ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন, ২৫% চান ২০২৬ সালের ডিসেম্বর বা পরে। নিজ নিজ আসনে কোন দলের প্রার্থী জিতবে বলে মনে করেন এমন প্রশ্নে ৩৮% বলেছেন বিএনপি, ১৩% জামায়াত, ৭% আওয়ামী লীগ, ১% এনসিপি ও ৩% অন্যান্য দল। ২৯% উত্তরদাতা জানেন না বা মত দেননি।
গবেষণায় উঠে এসেছে, অর্থনীতি তুলনামূলক ভালো থাকলেও জনগণের উদ্বেগ এখন রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা ঘিরে। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ কম এবং তাদের জন্য আলাদা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা তোলেনি দলগুলো। জনগণ মনে করে পুলিশ, অর্থনীতি ও শিক্ষা খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থাও কমেছে।
বিআইজিডি’র ফেলো সৈয়দা সেলিনা আজিজ বলেন, মানুষ দুই পথে সমাধান খুঁজছে নির্বাচন ও সংস্কার। তবে বড় একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কাকে ভোট দেবে। সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মির্জা এম হাসান মনে করেন, সাধারণ মানুষের মত ও এলিটদের মত এক নয়। আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন বড় উদ্বেগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আসিফ শাহান বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা সহনীয় হলেও দেশের অবস্থা ভালো মনে করছেন না অনেকে; কারণ নিরাপত্তা ও আইনের শাসনে অবনতি ঘটেছে।


