সর্বশেষ

সরকারি চাকরি আইন বাতিলের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন তীব্রতর, সচিবালয়-এনবিআরে অচলাবস্থা

নিউজ ডেস্ক : সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিলের দাবিতে দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আন্দোলন দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় থেকে শুরু করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), এমনকি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন পর্যন্ত আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে।

সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবেশ পথে গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্লকেড কর্মসূচি ও বিক্ষোভে অংশ নেন। ‘সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম’-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে তারা ঘোষণা দেন, আজ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হবে। আন্দোলনকারীরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাইব্রেরিতে অবস্থান করবেন বলেও জানানো হয়।

ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি চাকরি সংশোধন অধ্যাদেশে কোনো রকম সংশোধন নয়, সম্পূর্ণ বাতিল চাই আমরা। এই কালো আইন মানি না, মানবো না।”

টানা ৩৯ দিন তালাবদ্ধ থাকার পর আজ খুলছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন। আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মশিউর রহমান গতকাল জানান, নাগরিক ভোগান্তি কমাতে আজ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে সেবা কার্যক্রম আংশিকভাবে শুরু হবে। তবে প্রশাসক ও প্রকৌশল বিভাগের কক্ষগুলো তালাবদ্ধই থাকবে।

তিনি বলেন, “ঢাকাবাসীর স্বার্থে আমরা নাগরিক সেবা চালু করছি। জন্ম-মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সড়কবাতি সচল রাখার মতো সেবাগুলো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

অন্যদিকে, এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ আজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশব্যাপী তিন ঘণ্টার কলমবিরতি পালন করছে। চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে অংশ নিচ্ছেন।

সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “চেয়ারম্যানের মাধ্যমে রাজস্ব খাতে কোনো কার্যকর সংস্কার সম্ভব নয়। তিনি বারবার সময়ক্ষেপণ করছেন। তাই তার অপসারণ এখন সময়ের দাবি।” আগেই এনবিআর চেয়ারম্যানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছে ঐক্য পরিষদ।

টানা কর্মবিরতি, দপ্তর তালাবদ্ধতা ও বিক্ষোভের মুখেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর বা ত্বরিত পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জনগণের উপর।

এখন দেখার বিষয়, সরকার এই চলমান অচলাবস্থা নিরসনে কোন পথে হাঁটে সংশোধনের মাধ্যমে সমাধান, না কি আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে অধ্যাদেশ পুরোপুরি বাতিল।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা