কর্ণফুলী টানেলের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবদুর রউফ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিনব্যাপী এই পরিদর্শনে তিনি টানেলের আয় বৃদ্ধির নতুন কৌশল এবং অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনের শুরুতে সচিব কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেডের টানেল সংলগ্ন জেটি এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি ড্রাই ডক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোকে আরও কার্যকর করতে পণ্যবাহী যান চলাচল ও লজিস্টিক সুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ড্রাই ডক জেটির বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে টানেলের ব্যবহার ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে দ্রুত একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন,প্রধানমন্ত্রী দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।টানেলের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির ‘হেলথ মনিটরিং ইকুইপমেন্ট’ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সচিব স্বয়ংক্রিয় এই সেন্সর ও মনিটরিং সিস্টেমের কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে টানেলের ভেতরের বায়ু চলাচল, ভূমিকম্পন সহনশীলতা এবং যেকোনো ধরনের ত্রুটি রিয়েল-টাইম ডাটার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের উদ্দেশে বলেন, টানেলের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ধরনের শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয়। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এই মেগা প্রকল্পের মান বজায় রাখতে হবে।
পরিদর্শনকালে কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ,বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং টানেল সাইট অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


