৫ কিলোমিটার সড়কে ২২টি স্পিডব্রে
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতগামী প্রধান সড়কের সাথে সংযোগ সড়কে পরিকল্পনাহীনভাবে বসানো অতিরিক্ত স্পিডব্রেকার জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কালীপুর সলিয়া বাপের পুল থেকে বাহারছড়া সৈকত পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কে অন্তত ২০ থেকে ২২টি স্পিডব্রেকার স্থাপন করা হয়েছে, যেগুলো এখন স্থানীয়দের ভাষায় ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্পিডব্রেকারগুলো অস্বাভাবিকভাবে উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও নেই সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, রিফ্লেক্টর বা দৃশ্যমান রঙের ব্যবহার। ফলে দূর থেকে বোঝার উপায় নেই সড়কে স্পিডব্রেকার রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় কম দৃশ্যমানতার কারণে মোটরসাইকেল আরোহী ও যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম ঝুঁকিতে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
এই সড়কটি বাহারছড়া ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান অভ্যন্তরীণ সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন শত শত সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। ঈদ, পূজা-পার্বনসহ সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকরাও এই সড়ক ব্যবহার করে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে যাতায়াত করেন।
নিয়মিত পথচারী মুহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ‘একটি পর্যটনমুখী সড়কে এত সংখ্যক স্পিডব্রেকার অযৌক্তিক। এগুলো অতিরিক্ত উঁচু হওয়ায় অনেক সময় গাড়ির ধাক্কায় যাত্রী পড়ে গিয়ে আহত হন। বর্ষা মৌসুমে নিম্নমানের এসব ব্রেকার আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।’
উপজেলা যুবনেতা খোরশেদ আলী চৌধুরী বলেন, ‘পরিকল্পিত উন্নয়নের বদলে যত্রতত্র স্পিডব্রেকার বসানোই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনীয় স্থানে সাইনবোর্ড, জেব্রা ক্রসিং ও সোলার লাইট স্থাপন করা হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পর্যটন এলাকার মর্যাদা অনুযায়ী সড়কটি নিরাপদ ও আধুনিক করা জরুরি।’
এ বিষয়ে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত স্পিডব্রেকার যাতায়াতে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। কিছু স্থানে ব্রেকারের প্রয়োজন থাকলেও এতগুলো স্থাপন মোটেই যৌক্তিক নয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করছি।’
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জামশেদুল আলম বলেন, ‘সমুদ্র সৈকতগামী ওই সড়কে অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক স্পিডব্রেকার বসানোর বিষয়টি আমরা জেনেছি। অপ্রয়োজনীয় স্পিডব্রেকার অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পর্যটন কার্যক্রম বৃদ্ধির ফলে সড়কটির গুরুত্ব বেড়েছে। তাই এটিকে পর্যটনবান্ধব, নিরাপদ ও মানসম্মত করতে দ্রুত সংস্কার ও পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
ছবি: বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতগামী বাহারছড়া সংযোগ সড়কে বসানো হয়েছে অস্বভাবিক স্পিডব্রেকার।
কার


