সর্বশেষ

লবণ মাঠে ব্যস্ত বাঁশখালীর চাষীরা, ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বাড়ছে হতাশা

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাগর উপকূলীয় এলাকায় শুরু হয়েছে লবণ উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ। ভোরের ঘন কুয়াশা ভেজা পিচ্ছিল মাটিতে খালি পায়ে নেমে পড়ছেন লবণচাষীরা। দিন গড়িয়ে দুপুরে কড়া রোদ উঠলেও বিশ্রামের সুযোগ নেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা পরিশ্রমে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।
এ এলাকার অধিকাংশ লবণচাষী দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে পারিবারিকভাবে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবছর অগ্রহায়ণ মাসের শেষদিকে লবণ মাঠ প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়ে উৎপাদন চলে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দৈনিক মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ করে প্রায় ছয় মাস ধরে চলে এই শ্রমসাধ্য কার্যক্রম।
উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে কক্সবাজার ও খুলনার পর চট্টগ্রামের একমাত্র উপজেলা বাঁশখালীতেই বাণিজ্যিকভাবে লবণ উৎপাদন হয়। পশ্চিম পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, চাম্বল ডিপুটিঘোনা, শীলকূপ, সরল, কাথরিয়া ও খানখানাবাদ (আংশিক) এলাকায় ব্যাপকভাবে লবণ উৎপাদন হচ্ছে। চলতি মৌসুমে কয়েক হাজার চাষী মাঠে নেমেছেন। তবে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তাদের হতাশা কাটছে না। আগের মৌসুমের শতশত মেট্রিক টন লবণ এখনও চাষীদের নিয়ন্ত্রণে মজুদ রয়েছে।
লবণচাষীরা জানান, সাগরের লবণাক্ত পানি দিয়ে লবণ উৎপাদন করা হয়। জমি সমতল করে ছোট ছোট প্লট তৈরি করে পলিথিন বিছানো হয়। জোয়ারের সময় নালা বা শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি জমিতে এনে ৪–৫ দিন রোদে রাখা হলে পানি শুকিয়ে লবণ জমে ওঠে। তবে শীতের কুয়াশা উৎপাদনের জন্য ক্ষতিকর বলে জানান তারা। প্রতিদিন পলিথিন ছিদ্র হয়েছে কিনা তা নজরে রাখতে হয়।
সরেজমিনে ছনুয়া ছেলবন এলাকায় দেখা যায়, উৎপাদিত লবণ পাইকারদের কাছে বিক্রি করে জাহাজে তুলে দিচ্ছেন চাষীরা। কিন্তু তাদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। স্থানীয় চাষী মো. মিনহাজ বলেন, বর্তমানে মণপ্রতি লবণের দাম ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। অথচ প্রতিমণ লবণে শ্রমিক খরচ পড়ে ৩০–৪০ টাকা। এককানি জমিতে লবণ চাষে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এর ওপর পাইকাররা মণপ্রতি অতিরিক্ত লবণ নিয়ে যায়। ফলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।
উত্তর পশ্চিম গন্ডামারা লবণ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি মো. ওসমান গণি জানান, শুধু গন্ডামারা এলাকা থেকেই গত মাসে প্রায় ৪০ হাজার মণ লবণ বিক্রি হলেও এখনও ৩০–৪০ হাজার মণ লবণ মজুদ রয়েছে।ধারাবাহিক লোকসানের কারণে অনেক চাষী লবণ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
চাষীদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তার অভাবে মিল মালিক ও মহাজনরা কম দামে লবণ কিনে পরে উচ্চমূল্যে বাজারজাত করছেন। বিসিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে বাঁশখালী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রায় ৪০–৪৫ হাজার একর জমিতে প্রায় ৩০ হাজার লবণচাষি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। শুধু বাঁশখালীতেই বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন হচ্ছে এবং এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা