সর্বশেষ

বোয়ালখালীতে মসজিদে ব্যক্তির নাম ফলক ব্যবহারে স্থানীয়দের ক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ গ্রামে মাইজপাড়া নামক এলাকায় প্রায় ৩শ বছর পূর্বে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের দ্বারা নির্মিত হয়েছে মাইজপাড়া জামে মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা। সম্প্রতি মসজিদ ও মাদ্রাসার নাম ফলক পরিবর্তন করে ব্যক্তির নামে ফলক বসানোর পায়তারা করছে একটি মহল। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানায় এলাকাবাসী। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ গ্রামে মাইজপাড়া এলাকায় প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণের অর্থায়নে-শ্রমে নির্মিত ও পরিচালিত স্থানীয় মাইজপাড়া জামে মসজিদ। মসজিদ ভবনের জমির কাজগপত্র পর্যালোচনায় করে দেখা যায় যে, উক্ত মাইজপাড়া জামে মসজিদটি সি.এস/আর.এস/বি.এস খতিয়ানে সরকারী খাস ভূমি হিসাবে রকম মসজিদ এবং সর্ব সাধারণ ব্যবহার যোগ্য মর্মে লিপিবদ্ধ হয়। সে সুবাদে এলাকার লোকজন এবাদত বন্দেগী করার জন্য একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ, ফোরকানিয়া শিক্ষাসহ ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি বাঁচা মিয়া নামীয় ব্যক্তির কোন কাগজপত্র না থাকার স্বত্ত্বেও তার ওয়ারিশগণ ও বিশৃংখল প্রকৃতির লোক মসজিদটি তাদের দাবি করে আসছেন। তাছাড়া  মসজিদে বাঁচা মিয়া নামীয় ব্যক্তির নাম ফলক লাগিয়ে নেন। এতে এলাকায় বিশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলেই স্থানীয় মুসল্লিদের নানাভাবে অপমান-অবদস্ত ও অত্যাচার করছে বাঁচা মিয়ার লোকজন। বর্তমানে বাঁচা মিয়ার লোকজনদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শতাধিক মুসল্লি নামাজ পড়া থেকে বিরত রয়েছে। মসজিদের জমি সরকারী খাস ভূমি এবং এলাকাবাসী মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। এর নাম মাইজপাড়া জামে মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা নাম রাখার জন্য স্থানীয় মুসল্লিবৃন্দ ও এলাকাবাসীরা দাবী জানালেও বাঁচা মিয়ার ওয়ারিশগণ তা কর্ণপাত না করায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মুসল্লিদের সাথে কথা বলে জানা যায় শুধু মসজিদে নাম পরিবর্তন করে  ক্রান্ত হয়নি তারা। বাঁচা মিয়ার ওয়ারিশগণেরা মসজিদে সব খবরদারী ও ইমাম মোয়াজ্জিনকে হুমকি ধমকি ও জোর পূর্বক চাকরীচ্যুত করা এবং তারা যা বলবেন সে অনুযায়ী চলার ঘোষণাও দেওয়া হয় বলে জানান এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মসজিদের কাগজপত্র মোতাবেক মসজিদের নাম অত্র মাইজপাড়া জামে মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসার নামের নাম করণ করার জন্য বারবার বৈঠক করিলেও নজরুল ইসলামগং কোন এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তাহা কর্ণপাত করে নাই বলে এলাকার বাসীর অভিযোগ।

তাছাড়া বিগত ২০১১ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন খান বাদল কর্তৃক মাইজপাড়া জামে মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসার নাম অনুমোদিত কমিটি থাকলেও নজরুলগং তা পাত্তা দেন নাই। উল্লেখিত ঘটনায় মোহাম্মদ নুরুল কবির গং বাদী হয়ে ২৪/১৬, ৯০৬/২০২০ নং মামলা দায়ের করিলে মামলা চলমান অবস্থায় উচ্চ আদালত মূল মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীয় গেইটে মসজিদে ব্যক্তির নামের ফলক ব্যবহার না করে এবং ইহার কোন প্রকৃতি ও গাঠনিক পরিবর্তন না করে স্থিত অবস্থায় বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তদানুসারে উল্লেখিত বিষয়ে পর্যবেক্ষণ যোগ্য বিষয়াবলির সাথে সংগঠিত বজায় রেখে বিজ্ঞ সরকারী জজ বোয়ালখালী চট্টগ্রামকে অপর মামলা নং- ২৪/২০১৬ মামলাটি অত্র রায় ও আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ছয় মাসের মধ্যে ইতিবাচকভাবে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। কিন্তু বিবাদী নজরুল গং উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করিয়া মসজিদে বাঁচা মিয়া নামীয় ব্যক্তির নামের ফলক লাগিয়ে দেন। এলাকাবাসীরা প্রতিবাদ জানালে গেল বছরের ২৬ নভেম্বর নজরুল ইসলাম গং স্থানীয় মুসল্লিদেরকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। এতে তিন জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়। বর্তমানে (মামলা নং- ৪৫৭/২০২৪) বিচারাধীন রয়েছে। হামলার ঘটনায় মামলার বিষয়ে নজরুল ইসলামের লোকজন জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আদালত যে রায় দেবে সেটাই তারা মেনে নেবো। তবে আমরা বেঁচে থাকতে মসজিদের নামের ফলকে আমার দাদার নামই যদি না থাকে বেঁচে থেকেই আর লাভ কি?ষ

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা