সর্বশেষ

সারা দেশে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা, বরগুনায় পরিস্থিতি ‘হটস্পট’ পর্যায়ে

নিউজ ডেস্ক : ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। বিশেষ করে বরগুনা ও বরিশালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। রাজধানী কেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ডেঙ্গু এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে, যা পরিস্থিতিকে করেছে আরো জটিল ও উদ্বেগজনক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর জানান, বরগুনার পরিস্থিতি বর্তমানে দেশের অন্য যেকোনো জেলার তুলনায় ভয়াবহ। “পানি জমে থাকা বরগুনার একটি বড় সমস্যা, আর এডিস মশার প্রজননের মূল কারণও সেটিই,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গু একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি চ্যালেঞ্জ। একা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে তা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশনকে সঙ্গে নিয়েই প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।”

বরগুনায় বিশেষজ্ঞ টিমের অনুসন্ধান :

ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিশ্লেষণে ইতিমধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) বরগুনায় একটি বিশেষজ্ঞ টিম পাঠিয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, বরগুনার অধিকাংশ এলাকায় মশার ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর ওপরে, যা পরিস্থিতির মারাত্মকতার ইঙ্গিত দেয়। ফলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরগুনাকে ‘ডেঙ্গু হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৫১ জন, মৃত ৩০ জন :

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫১ জন। এ পর্যন্ত এ বছর আক্রান্ত হয়েছেন ৭,০৭৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত – ৮৬ জন। এরপর ঢাকা বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রামে ১৫ জন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে যথাক্রমে ১৮ ও ১০ জন, খুলনায় ৩ জন এবং রাজশাহীতে ২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও ভবন চিহ্নিত :

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অন্তত ১৩টি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তর সিটির ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো—২, ৮, ১২, ১৩, ২২ ও ৩৪। দক্ষিণ সিটিতে—৩, ৪, ২৩, ৩১, ৪১, ৪৬, ৪৭। সবচেয়ে বেশি লার্ভা পাওয়া গেছে বহুতল ভবনে (৫৮.৮৮%), যার পরেই রয়েছে নির্মাণাধীন ভবন (১৯.৬৩%) এবং একক বাড়ি (৯.৮%)।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা: ডেঙ্গুর আরেক দফা বিস্ফোরণ :

ড. কবিরুল বাশার সতর্ক করে বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় সংক্রমণের হার চার গুণ বেড়েছে। তাই এবার বড় ধরনের ডেঙ্গু বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিরোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ জরুরি :

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অবহেলা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে মাঠে নামতে হবে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে। বিশেষ করে পানি জমার উৎস খুঁজে তা দ্রুত অপসারণে নিতে হবে জোর পদক্ষেপ।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা