কাজী আয়েশা ফারজানা, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে থানা পুলিশের সহায়তায় প্রবাসির স্ত্রীর কাছ থেকে মোঃ শাহ আলম নামের এক বিএনপি নেতা থানা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ উঠেছে।
২১ এপ্রিল দুপুরে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে প্রবাসির স্ত্রী এলাকাবাসির গণস্বাক্ষরযুক্ত একটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের বরাবর দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শাহ আলম বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদন্ডী ৭নং ওয়ার্ড বহদ্দার বাড়ীর বাসিন্দা। তিনি পশ্চিম গোমদন্ডীর প্রস্তাবিত ইউনিট বিএনপি সাবেক সভাপতি বলে জানা গেছে।
এছাড়া বোয়ালখালী থানার উপ-পরির্দশক(এস.আই)জুয়েল রানার জন্য টাকা দাবীর কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।(এ সংক্রান্ত দুটি অডিও ক্লিপ এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে)
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে,বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদন্ডী চৌকিদার বাড়ীর বাসিন্দা প্রবাসির স্ত্রী নিলু আকতারের পাকা দালানের কাজ চলমান রয়েছে। এ দালান করতে ইট,বালি,রড,সিমেন্টসহ আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র বিএনপি নেতা শাহ আলমের মাধ্যমে না কেনায় শাহ আলম নিলু আকতারের উপর ক্ষুদ্ধ হন এবং যার কাছ থেকে দালান নির্মাণের জিনিসপত্র কেনা হয়েছে তার স্ত্রীকে দিয়ে একটি মিথ্যা অভিযোগ থানায় দায়ের করেন। বোয়ালখালী থানার উপ-পরির্দশক জুয়েল রানা এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৈঠকের নামে নিলু আকতারকে থানা ডেকে হয়রাণী করছেন। পরবর্তীতে মোঃ শাহ আলমের মাধ্যমে এক লক্ষ দাবী করেন। যদি দাবী মতো টাকা না দেয়া হয় তাহলে প্রবাসির স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেবেন শাহ আলম হুমকী দেন। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসির মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এলাকাবাসির গণস্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দায়ের করেন।
এছাড়াও অভিযোগে শাহ আলমকে থানার চিহিৃত দালাল ও তিনি থানা পুলিশের যোগসাজসে স্থানীয় নিরীহ মানুষকে ইয়াবা,মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে চাঁদা দাবী করেন ও মানুষের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে সমাধান করবে বলে টাকা দাবী করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোঃ শাহ আলম তাকে পশ্চিম গোমদন্ডী ৭নং ইউনিট বিএনপির সাবেক সভাপতি দাবী করে বলেন এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। যদি প্রমাণ করতে পারে তাহলে তিনি যেকোন শাস্তি মাথা পেতে নেবেন।
বোয়ালখালী থানার উপ-পরির্দশক জুয়েল রানা বলেন, অভিযোগটি সর্ম্পূণ মিথ্যা। মহিলার বিরুদ্ধে অন্য এক মহিলা তার স্বামীর সাথে নিলু আকতারের সর্ম্পক নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে থানায় আসতে বলা হয়েছে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ওসি তদন্ত খায়রুল ইসলাম খান বলেন, যদি ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোঃ রহমত উল্লাহ’র মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


