জন্মের পর থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে। স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি দে-শে যত গুলো জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে তত মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ছিল ঐতিহাসিক ও বস্তুনিষ্ঠ এবং জবাবদিহি নির্ভর অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন। যেখানে দেশজুড়ে কোথাও সংঘাত দলবাজি কেন্দ্রদখল বোমাবাজি সন্ত্রাসযজ্ঞ খুন হত্যা মারামারি কিংবা কোন প্রকার রক্তপাত ছাড়াই নিরপেক্ষ এবং মুক্ত চিত্তে আতংক ছাড়াই ভোট প্রদান-গ্রহণ ও গননা প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক তো বটে সাথে ১২ ফেব্রুয়ারী দিনটি গনতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশিষ্টজনেরা। ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথম বারের মতো দেশে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের ভোটে নতুনত্ব ছিল শুধুমাত্র সরকার গঠনের প্রতিযোগিতা নয়; সাথে সংবিধান সংশোধন ইস্যুতেও এক ধরনের গণভোট (রেফারেন্ডাম) হিসেবে দেখানো হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক অধিকার ও নির্বাচন বিশ্লেষক হিসেবে গত ১১ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারী রাত ১২টা পর্যন্ত ভোট দিবসের প্রথম প্রহরে থেকে ভোট দানের শেষ সময়টুকু ও ভোট গ্রহণ শেষে গননা প্রক্রিয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরী এবং জেলার আওতাভুক্ত সকল সংসদীয় আসনে স্পেশাল দায়িত্বভার নিয়ে বিচরণ করে এবং দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সরকার ইসি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উপর আমার ক্ষূদ্র অবজারভেশনের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণেহর সারাংশ তুলে ধরলাম।পর্যবেক্ষণে মাট থেকে উঠে আসে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন শক্তিটি স্পষ্টভাবে এগিয়ে আছে বলে ধারণা করা হলেও ডা; শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড ভিন্ন চিন্তা করতে ভাবিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হেতু বিন্যাস উল্লেখ করা হয়েছে যা বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল ও রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ক্ষেত্রে সর্ব মহলের বিবেচক চিত্তে গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়।
আনিত বিশ্লেষণের মধ্যে রয়েছেঃ
ক) অনিশ্চিত বা ভোটারদের ভূমিকা:
বাংলাদেশের একটি বড় অংশের ভোটার কেন্দ্রে যাননি। যার দরুন প্রায় ১৪.৫ শতাংশ ভোটার অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছিল। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাদের প্রথাগত ১০-২৫ শতাংশ সমর্থক ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকেছেন সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের অর্ধেক উত্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি”র মতো দল এই বড় ভোটব্যাংক এবং তরুণ ভোটারদের নিজেদের পক্ষে আনার জোর প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে। জামায়াত মধ্যে কৌশল অবলম্বন করলেও আধুনিক ভাবধারার প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় এই ‘ফেন্স সিটার’ বা দোদুল্যমান ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখে। গবেষণায় উঠে এসেছিল তারা যেদিকে ঝুঁকবেন,বিজয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সমীক্ষায় ঐ বিশ্লেষণটাই সঠিক: প্রকৃত পক্ষে ফলাফল তাই হয়েছে।
খ) ভোটার উপস্থিতির হার (টার্নআউট):
নির্বাচন কমিশনের মক ভোটিংয়ে দেখা গেছে,সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট হওয়ায় ভোট দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি সময় লেগেছে। ভোটার উপস্থিতি কম হলেও সেটি জামায়াতের জন্য সুবিধাজনক হতে পারেনি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর রিপোর্ট বলছে,যদি ভোটার উপস্থিতি ৬৫-৬৮ শতাংশ হয়,তবে বিএনপি জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি হবে। যদি উপস্থিতি কমে ৫৩-৫৮ শতাংশে নামলে ক্যাডার-ভিত্তিক ইসলামি দল হিসেবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু দৃশ্যপট বহুমূলে অনুকূল প্রবাহিত হয়েছে শুধুই বিএনপির পক্ষে।
গ) নারী ও বয়স্ক ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে অনীহাঃ ধীরগতির ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সংঘাতের আশঙ্কায় নারী ও প্রবীণ ভোটাররা কেন্দ্রবিমুখ হতে দেখা গিয়েছে। নারী ভোটারদের মধ্যে ভোটের উৎসাহ গত কয়েক মাসে কমেছে বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে আসলেও সহিংসতার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ ঘরে বসে থাকেনি। ক্যাডার-ভিত্তিক হলেও সুশৃঙ্খল ইসলামি দল হিসেবে জামায়াত তাদের নিশ্চিত ভোট গুলো সংগ্রহ করে নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে কাঠখড় পোহাতে হয়েছে।
ঘ) উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিঃ
আওয়ামীলীগ বিহীন এই নির্বাচনে দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কেননা ৪২ শতাংশ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা পড়েনি, যা সহিংসতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছিল। এরমধ্যে রাজধানী ঢাকা সহ বিভাগীয় শহর এলাকা প্রায় ফাঁকা হয়ে ঈদের মতো মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে ভোট দেওয়ার জন্য। এরকম হওয়ার কারণ ছিল বিগত ১৭ বছরের ক্ষোভ, মুক্তির বিপরীতে ভোটাধিকার প্রাপ্তির উৎসবটা ঈদের আমেজে রুপান্তরিত হয়েছে। যার দরুন বিএনপি তাদের এত বছরের রাজপথ লড়াইয়ের ফসল ঘরে তুলতে খুব একটা বেগপেতে হয়নি। অপর দিকে সুসংগঠিত জামায়াত ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেবে এমন প্রশ্নের উত্তর মেলাতে গিয়ে ব্যালট যুদ্ধে কৌশলগত পরাজয় স্বীকার করেছে তারা।
ঙ) পর্যবেক্ষণ থেকে বিশ্লেষণঃ
১১ তারিখ সন্ধ্যা থেকে যখন আমার টিম সরজমিন অনুসন্ধানরত ছিল তখন দেখা যায়ঃ সমস্ত ভোট কেন্দ্র প্রায় দখলের পায়তারা নিচ্ছে জামায়াতের কর্মী বাহিনী। শুরু হয় নানান ধরনের নাশতা সাথে গুজব ছড়ানো তো আছেই। ঠিক তখনই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী মহল থেকে সার্বিক পরিস্থিতি রাত ১১টার পরে গুছিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত আসে। ঠিক তখনই সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় যৌথবাহিনী নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় সমস্ত কেন্দ্র। নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এই মুহূর্ত্বে ধানের শীষ ও দাঁড়ীপাল্লা প্রধান ইসু নয়। গুরুত্বের বিষয় সরকার এবং সেনাবাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হলো,যে কোন মূল্যে দখলমুক্ত ও নাশতামুক্ত এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হবে। কেননা সরকার বদ্ধপরিকর ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে যে, দেশের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে এ নির্বাচনকে প্রমাণ করার। কেননা রাজনৈতিক দল গুলোর নাশতা নির্ভর নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রের ও প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি নিহিত “গনভোট” কে কোন অবস্থায় প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। সুতরাং এ নির্বাচনকে সকল করতে সব বিতর্কের উর্ধে রাখতে হবে। এই কনফিডেন্সটিভ তথ্য গুলোর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়,দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক ঠেকাতে এবং সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দীর্ঘ ২ বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জুলাই বিপ্লবের সনদকে আইনসিদ্ধ করতে ঐতিহাসিক “গনভোট” নিরপেক্ষ হোক বা না হোক বা “না” ভোট জয়যুক্ত হোক কিন্তু বিশৃঙ্খলা ও নাশতা হতে দিবেনা প্রশাসন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশন সকলেই বর্তমান ও ভবিষ্যতে আইনসিদ্ধ এবং সাংবিধানিক বৈধতা নির্ভর বাংলাদেশ দিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। কেননা এ নির্বাচন সুষ্ঠ ও আবাধ না হলে আগামীর পথচলায় বাংলাদেশের যে কোন নির্বাচিত সরকার হাজারো বাঁধার সম্মুখীন হতো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা ন্যায় সিদ্ধ হয়ে যেতো। তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংঘাত মুক্ত ও নিরপেক্ষ রাখা হয়েছে। এই সুষ্ঠ নির্বাচন উপহার দিতে পারার একটি উদাহরণ পরিলক্ষিত করেছে গোটা জাতি। আর তা হলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও বিশ্বনন্দিত নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস তাঁর নিজের ভোট খানা দিতে এসে ভোট কেন্দ্রের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের যে আত্মহারা ও বাধভাঙ্গা আনন্দে বিমোহিত হয়ে অনেক টা নেচে উঠে নিজের আত্ম তৃপ্তির বহিঃপ্রকাশ করে বলেছেন “আজ বাংলাদেশের জন্মদিন ও গনতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার দিন” তিনি আরও বলেন,”আজ মহা খুশির দিন আজ মাহা ঈদের দিন” সুতরাং বাংলাদেশের আপামর জন সাধারণের জন্য এটি কি মেসেজ বা বার্তা ছিল তা বুঝে উঠাই হলো আগামী বাংলাদেশের মাইলফলক।
সমস্ত পর্যবেক্ষণ থেকে বিশ্লেষণ করে এতটুকুই অনুমান ও বিশ্লেষণ হলোঃ দরজা বন্ধ নির্বাচন কিংবা রাতের ভোট হয়নি এবং হতে দেয়া হতো না। সুতরাং জনপ্রিয় নির্বাচনী প্রতীক যেটাই ছিল জনগণ ওটাতেই রায় দিবে এবং ঐ দল জয়যুক্ত হবে। কিন্তু কোন প্রকার জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিতে দেয়া হবে না। ঠিক এই মুহূর্তেই জনরায়ের পবিত্র আকাঙ্খার দল বিএনপি ছাড়া বিকল্প কোন পথ ছিল না বাঙালী জাতির কাছে। তাই বাংলাদেশের জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারী ভুল সিদ্ধান্ত নেয়নি। ধানের শীষে তাদের রায় দিয়েছেন। অপর দিকে জামায়াত একটি মেধাবী রাজনৈতিক দল হলেও মূলত তারা বড্ড বেকুবি পথে পরিচালিত হয়েছে। এখানেই বিশ্লেষণ বলে: হয়তো জামায়াতের উপর আল্লাহ রাজি নেই বা ছিল না। গভীর বিশ্লেষণ করে আরও পরিস্কার হওয়া যায় যে,বাংলাদেশের ইতিহাসে ও স্বাধীনতার প্রায় ৫৪ বছরের মধ্যে এটাই ছিল তাদের জন্য সর্বশেষ এবং একমাত্র সুযোগ। যার বরাত দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাহী দায়িত্বে যাওয়ার। তাই তারা এটাকে কাজে লাগাতে সর্বোচ্চ চেষ্টাও করছে কিন্তু তাদের পরিকল্পনায় প্রথম ও বড় ভুল ছিল জোটবদ্ধ নির্বাচন করা। তাদের এই জোট আজ তাদের গলার কাটা হয়ে আটকে গেছে যার দরুন চরম মূল্য দিতে হয়েছে দলটিকে। জোটের মধ্যে শরীক দলগুলো যে সবাই তাদের আপন নয় সেটা বুঝে উঠতে পারেনি দেশের বৃহত্তর ইসলামি রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। এখানে গবেষণা নিহিত হয়েছে যে,দীর্ঘ এত বছর বিএনপির রাজনীতির ধারা ঐক্য ও জোট এবং নির্বাচন করা সহ আন্দোলন সংগ্রাম এক মঞ্চে করে এসেছে। হঠাৎ আলাদা বা একক নির্বাচন বিএনপি ছাড়া অন্য ছোট দল নিয়ে জোটগত নির্বাচন করা ভোটের মাঠে ঠিকতে নানান প্রশ্নের জন্ম তো দিয়েছে পাশাপাশি নীতিগত ও আদর্শের ভাঙন ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।রাজনীতির গাণিতিক সূত্রাবলীর সঠিক প্রয়োগের ক্ষেত্র বিন্যাস সাধারণ মানুষের মতো লোভে ও মোহে আক্রান্ত আন্দোলনকারী ছাত্র সমাজের বিছিন্ন কিছু ছাত্রনেতা বুঝে উঠতে পারেনি বলে আমার ধারণা।
সারাদেশের ৩০০ আসন সার্ভে করে দেখা যায় জামায়াত জোটে প্রাপ্ত সংসদীয় আসন গুলো কিভাবে জমেছে..? দেশব্যাপী যেখানে তাদের নারী ভোট আছে ২% আর পুরুষ ভোট আছে ১৫% তাহলে দেশের সর্বমোট ভোটারের ভোটের উপর আসন প্রতি গড়ে ভোট জমে ৯%। তাহলে তারা কিভাবে আশা করে একক সরকার গঠন করার। এখন প্রশ্ন যদি জোটগত নির্বাচন ও জোট সরকারের আসে তাতেও তাদের সর্বমোট গড় জমে ১১%। দেশের স্বতন্ত্র নির্বাচন বিশ্লেষকদের সার্ভে অনুসারে জামায়াতে ইসলামীর একক অংশগ্রহণে সারা দেশে ভোটের মাঠে জয় লাভ করার নিশ্চিত আসন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭টি। আর জোটগত ভাবে নির্ণয় করলে তাদের শিবিরে আসন জমে ৩২টি। কিন্তু ত্রয়োদশ নির্বাচনী ফলাফলে জামায়াত একক ভাবে পেয়েছে ৬৮ আর শরিকদের কাছ থেকে ৯টি আসন পেয়েছে। যা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ও সর্বোচ্চ প্রাপ্ত আসন। যেখানে এর পূর্বে সর্বশেষ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মাত্র ২টি আসন পেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী।তাহলে এই মাঝে সময়ে তাঁরা কোন আলাদীনের চেরাগ পেয়েছে যে এক লাফে এত বিপুল পরিমাণ আসন একাট্টা করতে পেরেছে। অথচ প্রেক্ষাপট অনুবলে জুলাই বিপ্লবের দোহাই দিয়ে আরও নতুন সংযুক্তির ভিত্তিতে সর্বমোট ৩৫ টা আসনে এসে আশ্রয় পাওয়ার কথা আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির কারণে। এর বাহিরে প্রশ্নই তো আসে না। তাহলে কি তাদের দ্বিতীয় ও প্রধান প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল
হিসেবে বিরোধী দলের ভূমিকা রাখার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে..? নাকি রাজনীতির মারপ্যাঁচে কুলিয়ে উঠতে পারেনি বিএনপি। প্রশ্ন টা অসম্পূর্ণ রেখে গেলাম.!!
এবার স্বতন্ত্র ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও ১৫টা আসন হাত ছাড়া হওয়ার কথা ছিল বিএনপির। কিন্তু প্রত্যাশিত ২৫০ আসন বিএনপি থেকে চিনিয়ে নেয়া কতটা সহজ হয়ে উঠে প্রতিপক্ষ শিবিরে। এটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়। তাহলে কি জামায়াতের পরিকল্পিত কুটকৌশল বিএনপির অজানা ছিল না। নাকি নির্বাচন ও গ্রহণ যোগ্যতার প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে রেখেছেন তারেক রহমান। যেহেতু জামায়াতের রাজনৈতিক চরিত্র ও নীতি আদর্শ নিয়ে বিএনপি অবগত। বিএনপি এ যাত্রায় নাহয় ঘুরে দাঁড়ালো। তাহলে কি তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোন সুযোগ বর্তমান অবস্থায় দিবে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বিনাশ করার জন্য। এখানে জামায়াত কে বিশ্বাস করা উচিৎ হবে..? না প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশ ঘটবে বিএনপি..?। মনে রাখা তো খুবই জরুরি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালা বদলের পালে বাতাস দেয়ার জন্য বৈদেশিক ও কুটনৈতিক ফায়দা নিতে জামায়াত কে সুযোগ করে দিবে রাজনৈতিক শত্রু ও বহিরাগত কুটনৈতিক শক্তি ও চাল। আবার রাষ্টীয় সুবিধার আওতায় রাখলে বা দিলেও তা আগামীর বাংলাদেশের গতিপথ কোন দিকে মোড় নিবে..? রাজনীতির এই উল্টো সমীকরণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষমতার উৎস সৃষ্টি করাকে প্রমোট করবে না জাতীয় সরকার বা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে নতুন কোন ইতিহাস সৃষ্টি করবে তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ।
লেখকঃ
এস এম আবুল বরকত আকাশ
জাতীয় নাগরিক অধিকার ও নির্বাচন বিশ্লেষক ও নির্বাহী সম্পাদক,
Daily Capital Views & DCVnews.com
ইমেইলঃ smakash95@gmail.com


