নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা (NCA) সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিপুল সম্পদ জব্দ করেছে। মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে বর্তমানে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তাধীন থাকা এই সাবেক মন্ত্রী ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, চলমান একটি বেসামরিক তদন্তের অংশ হিসেবে এনসিএ সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যের একাধিক সম্পত্তি ফ্রিজ করেছে। এর ফলে তিনি এখন এসব সম্পদ বিক্রি কিংবা হস্তান্তর করতে পারবেন না।
২০২৪ সালের অক্টোবরে “দ্য মিনিস্টার্স মিলিয়নস” শিরোনামে আল জাজিরার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাইফুজ্জামানের যুক্তরাজ্যে ৩৫০টিরও বেশি সম্পত্তির খোঁজ মেলে। এর মধ্যে লন্ডনের অভিজাত এলাকা সেন্ট জনস উডে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল বাড়ির দাম প্রায় ১১ মিলিয়ন পাউন্ড (১৪.৮ মিলিয়ন ডলার)। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক এই মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাতে তার বিশ্বব্যাপী সম্পদের বৃত্তান্ত তুলে ধরেন। তিনি ব্যয়বহুল স্যুট ও ডিজাইনার ‘বেবি ক্রোক’ চামড়ার জুতা পরার শখের কথাও প্রকাশ করেন।
সাইফুজ্জামান নিজেকে শেখ হাসিনার ছেলের মতো উল্লেখ করে জানান, “তিনি (শেখ হাসিনা) জানেন যে, এখানে (যুক্তরাজ্যে) আমার একটি ব্যবসা আছে।” তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার সরকারের প্রভাবশালী সদস্য এবং নিকটতম আস্থাভাজনদের একজন।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ম অনুযায়ী, একজন নাগরিক বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার বিদেশে পাঠাতে পারেন। অথচ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাইফুজ্জামান এই সীমা বহু গুণ অতিক্রম করে লন্ডন, দুবাই ও নিউইয়র্কে ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি সম্পদ বিনিয়োগ করেছেন। অথচ এসব সম্পদের কোনো উল্লেখ নেই তার দাখিল করা আয়কর রিটার্নে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার ছাত্র ও জনতার আন্দোলনে দমনপীড়নের দায়ে ভেঙে পড়ে। শত শত প্রাণহানির ঘটনার পর, শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। তার পতনের পরপরই বহু মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা দেশ ছাড়েন, যাদের একজন ছিলেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তদন্তে এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে, কিভাবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে এসব অপরাধের বিচারে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।


