সর্বশেষ

বরিশালে ন্যায়বিচারের দাবীতে অসহায় বাবা-মেয়ের আর্তনাদ!

মজিবর রহমান নাহিদ, বরিশাল
বরিশাল : মেয়ের উপর নির্যাতনের ঘটনায় ন্যায় বিচারের আশায় প্রশাসনের দপ্তর থেকে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার হতদরিদ্র পিতা আব্দুল মজিদ।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ছোট শৌলা রাজপাশা এলাকার আলমগীর সিকদারের ছেলে খলিলুর রহমান সিকদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় মজিদ সিকদারের মেয়ে আকলিমার। মেয়ের সুখের আশায় নিজের শেষ সম্বল বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকার উপহার সামগ্রী দিয়েছিলেন তিনি। শুরুতে সংসার ভালোই চলছিলো। একসময় তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তানও।
কিন্তু সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। স্বামী খলিলুর ব্যবসার কথা বলে আকলিমার পিতার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দিতে শুরু করেন। হতদরিদ্র পিতা সেই টাকা দিতে না পারায় শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। প্রতিনিয়ত গঞ্জনা, মারধর আর মানসিক যন্ত্রণায় জর্জরিত হতে থাকে আকলিমা। অবশেষে একপর্যায়ে শিশুসন্তানসহ তাকে ঘর থেকে বের করে দেয় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
আকলিমা বলেন,’আমার শশুড় আমাকে নানা অজুহাতে প্রায়ই নির্যাতন করতো৷ একদিন আমি বাঁচাও-বাঁচাও বলে পাশের এক বাড়িতে আশ্রয় নেই, সেখানে গিয়েও আমাকে মারধর করেছে। এমন প্রায় প্রতিদিনই আমাকে নির্যাতন করতো। আমাকে নির্যাতনের মূল কারন আমার বাবা গরিব, তার সামর্থ নেই শশুড় বাড়ির লোকদের দাবীকৃত টাকা দেয়ার।’
অত্যাচারের বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন আকলিমা। কিন্তু মামলা করার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বর্তমানে পিতার ভাড়াটিয়া বাসায় ছোট ছেলেকে নিয়ে দিন পার করছেন তিনি।
বটগাছের মতো ছায়া দিয়ে মেয়েকে আগলে রেখেছেন পিতা আব্দুল মজিদ। কিন্তু বয়স আর দারিদ্র্যের ভারে ন্যুব্জ এই পিতার পক্ষে মেয়েকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হয়ে পড়েছে কঠিন। তবুও তার আশা—ডিভোর্স নয়, মেয়ে যেন স্বামীর ঘরে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারে।
আব্দুল মজিদ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন,’আমার এই মেয়েকে অনেক কষ্টে বিএ পাশ করাইছি। তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে শশুড় বাড়ির লোকজন। মামলা করার পর এখন হুমকি দেয় মেরে ফেলার। আমাদের সামর্থ্য নেই তাদের সাথে লড়াই করার। সরকারের কাছে আবেদন করছি আমাদের পাশে দাড়ানোর।’
আকলিমা ও তার পিতা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন—যেন ছোট্ট শিশুটি পিতৃপরিচয় নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে, আর তার মায়ের চোখের কান্না থেমে যায়।
spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা