ভোলা–বরিশাল সেতুসহ পাঁচ দফা দাবিতে ভোলার ১৯ জন ছাত্র–যুবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঐতিহাসিক লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছেন। জেলার উন্নয়ন বঞ্চনা ও যৌক্তিক দাবির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা ১১ নভেম্বর ভোরে চরফ্যাশনের জ্যাকব টাওয়ারের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করেন।
প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীরা পায়ে হেঁটে ভোলার ব্যানার ব্যাংকের হাট তেতুলিয়া নদীর ঘাটে পৌঁছান। এরপর শীতল তেতুলিয়া নদীর প্রবল স্রোত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ উপেক্ষা করে তারা সাতার কেটে ভোলার ভূখণ্ড থেকে বরিশালের বুকভূমিতে ওঠেন। নদী পার হওয়াই তাদের যাত্রার সবচেয়ে প্রতীকী ও চ্যালেঞ্জিং অংশ।
বর্তমানে তারা বরিশালের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হচ্ছেন। বরিশাল হয়ে সড়কপথে পায়ে হেঁটে ঢাকার দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখবেন। চূড়ান্ত গন্তব্য ঢাকা সেতু ভবন, যেখানে দাঁড়িয়ে তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরবেন।
পাঁচ দফা দাবি:
১. ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণ
২. ভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন
৩. গ্যাসভিত্তিক শিল্পায়ন
৪. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
৫. স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ
লংমার্চে অংশ নেওয়া ছাত্র–যুবকদের পরিচয় তারা প্রকাশ করতে চাননি। তবে তারা জানান, জুলাই আন্দোলনে ভোলার পক্ষে ছিলেন সক্রিয় এবং দীর্ঘদিন ধরে জেলা উন্নয়ন দাবিতে আন্দোলনে মাঠে রয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষায় তারা “ভোলার গর্বিত সন্তান”, যারা ব্যক্তিস্বার্থ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে এই কঠিন অভিযানে নেমেছেন।
পথে পথে সাধারণ মানুষ পানি, খাবার ও মানসিক উৎসাহ দিয়ে তাদের সমর্থন জানাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের এই সাহসী উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তেতুলিয়া নদী সাতরে পার হওয়ার সময় রামিম নামের এক আন্দোলনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তাদের যাত্রাসঙ্গী পর্যবেক্ষণ ট্রলারে থাকা মীর মশারেফ অমি ও মেহেদী হাসান।


