কক্সবাজারে আয়োজিত দিনব্যাপী এক সেমিনারে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের টেকসই এবং মর্যাদাপুর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই। রোহিঙ্গাদের অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।
আজ রবিবার (১৬ নভেম্বর) কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যবাসন কমিশন (আরআরআরসি) এবং ব্র্যাকের সহায়তায় কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিজিএ আয়োজিত কনফারেন্সে এসব অভিমত প্রকাশ করেন বক্তারা।
কনফারেন্সে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন বৈশ্বিক সমস্যা। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে অবস্থান করছে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভারে ভারাক্রান্ত এলাকার লোকজন। রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক নয়—এটি ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক জবাবদিহিতার প্রশ্ন।
মায়ানমারের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত ও রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয় এতে।
সিজিএ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ফরিদা পারভীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রোহিঙ্গা সেলের প্রধান মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ প্রমুখ।
তিন পর্বে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কনফারেন্সে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কি নোট উপস্থাপন করেন মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) ব্যুরো চিফ জুলহাস আলম।
এ ছাড়াও রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনা করেন প্রফেসর ড. রাহমান নাসির উদ্দীন, ড. জাকিয়া সুলতানা, প্রফেসর ড. আমেনা মহসিন, আসিফ মুনির সিজিএ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি ওসমান গনি মনসুর, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী কক্সবাজার জেলা জামায়াত ইসলামের আমির নুর আহমেদ আনোয়ারী, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সুজা উদ্দীন সুজা ও সিপিবি নেতা করিম উল্লাহ কলিম প্রমুখ।
সম্মেলনে অংশ নেন সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, রোহিঙ্গা কমিউনিটি লিডার, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার কর্মকর্তা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন স্টেকহোল্ডাররা।


