সর্বশেষ

চমেকে অব্যবস্থাপনা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিকের ক্ষোভ

“একবার সহযোদ্ধা টিসিজেএ এর সম্পাদক দীপঙ্কর দাগের পিতা প্রদ্ধেয় মৃদুল নাশের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে, আরেকবার অগ্রজ সাংবাদিক সকলের প্রিয় খোরশেদ ভাই আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অপারেশন ও পরবর্তীতে উনাকে দেখতে। শ্রদ্ধেয় মৃদুল দাশের মরদেহ ইমারজেন্সিতে রাখা হয়েছে। আশপাশে আরও ৪টি লাশ গুনলাম। লাশের যেন মিছিল। এত লাশ কিন্তু মেডিকেল ওয়ালাদের কোন ভাবলেশ নেই। মৃত্যু পরবর্তী মরদেহ ব্যবস্থাপনায় তাদের অবস্থা এই নিচ্ছি নিচ্ছি, যাচ্ছি যাচ্ছি’। চমেক হাসপাতাল বলে কথা। এরকম কত লাশ পড়ছে এখানে প্রতিদিন। তাতে কি। ‘ এই পৃথিবীর পরে কত ফুল ফোটে আর ঝরে’।”

ঠিক এভাবেই নব্বই এর দশকের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ‘আন্জুমান আরার” গানের একটি বাক্যকে টেনে এনে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে গেল মঙ্গলবার (৪ মার্চ) নিজের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করছিলেন দৈনিক আজকের পত্রিকার ব্যুরো প্রধান ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ।

ঐ স্ট্যাটাসে ওয়ার্ড বয় ও আয়াদের অযাচিত কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি আরো লিখেন, ‘এদিকে খোরশেদ ভাইকে যে ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে সেই ৭৯ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখলাম বাথরুম থেকে পানি আসছে ওয়ার্ডে। কোরবান আলী নামে এক ওয়ার্ড বয়কে ডেকে আনা হলো তার চিকিৎসা করতে। রমজানের দিনে কোরবান বিনিময় ছাড়া যতটুকু দায়িত্ব পালন করা যায় ততটুকু করে চলে গেলেন।’

‘এরপর আসলেন এক আয়া। তিনি ওয়ার্ড ঝাড়ু দেয়া শুরু করলেন। তখন রাত পৌনে ১১টা। ম্যাজিক গার্ল এর মতো ময়লার স্তুপ যোগাড় করে ফেললেন। দূর্গন্ধময় ময়লা। সীটের উপরে রোগিতে ঠাসা আর তিনি ময়লাগুলো ঝাড়ুর ইশারায় নিয়ে যাচ্ছেন এক কোণায়। এক সময় নিয়েও গেলেন ওই কোণায়। রোগিদের কেউ কেউ নাক চেপে ধরেছিলেন। যেকোন হাসপাতালে জীবাণুযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কত তৎপর থাকে কর্তৃপক্ষ। আর এখানে নীচে জীবাণু উপরে রোগী।অর্থাৎ নীচে রোগ উপরে রোগী, মাঝখানে কর্তৃপক্ষ হাওয়া!’

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার কর্তৃক নানা সংস্কার কর্মসূচী গ্রহণ করা হলেও স্বাস্থ্য খাতের অব্যাবস্থাপনার পরিবর্তন ও দৃশ্যমান সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ না করায় তিনি লিখেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর সংস্কার সংস্কার আওয়াজে স্বাস্থ্যখাতের স্বাস্থ্য কিছুটা আশা জাগানিয়া হবে এই আশায় মানুষ বুক বাঁধে। এখন সংস্কার হলো না আগের পরিস্থিতির প্রতি নমস্কার হলো বুঝলাম না। এ পরিস্থিতির উন্নতি করা কি কঠিন কাজ? আসলে বন্দর সংস্কার, কাস্টম সংস্কার, রাজনীতি সংস্কার আরও কত সংস্কার নিয়ে ব্যস্ত আমরা।’

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা