ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে মোট ৮১টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৭ ডিসেম্বর) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত তালিকার মাধ্যমে এসব সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রকাশ করা হয়।
কমিশন জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে ৭৩টি স্থানীয় সংস্থার প্রাথমিক তালিকা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। তালিকা প্রকাশের পর সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো দাবি, আপত্তি বা অভিযোগ গ্রহণের জন্য ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে ইসি। অভিযোগের সঙ্গে সহায়ক প্রমাণ দাখিল বাধ্যতামূলক ছিল।
প্রথম ধাপে ৬৬টি সংস্থাকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সংস্থাগুলোর নিবন্ধনের মেয়াদ ৬ নভেম্বর ২০২৪ থেকে ৫ নভেম্বর ২০৩০ পর্যন্ত থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৫টি সংস্থাকে যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সংস্থাদের নিবন্ধন কার্যকর হয়েছে ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে ৩ ডিসেম্বর ২০৩০ পর্যন্ত। এই দুই ধাপ মিলিয়েই মোট ৮১টি স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে অংশ নিতে পারবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত ৯৬টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’-এর ধারা ১৬ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ায় পুরনো নিবন্ধন আর বহাল নেই।
নির্বাচন কমিশন বলছে, সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুসারে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সংস্থাগুলোর যোগ্যতা, সাংগঠনিক কাঠামো, আর্থিক সক্ষমতা, মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা এবং পূর্ববর্তী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি আসন্ন গণভোটে ভোটগ্রহণ, ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম, ভোটারদের উপস্থিতি, আচরণ বিধি অনুসরণ এবং সামগ্রিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করবে নিবন্ধিত সংস্থাগুলো।


