চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একের পর এক চুরির ঘটনায় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী মহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ৮ থেকে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।
গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গভীর রাতে চাম্বল ইউনিয়নের চাম্বল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে চুরি সংঘটিত হয়। এ সময় চোরচক্র ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম, হারমোনিয়াম, বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় চোরচক্রের কয়েকজন সদস্যকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
পুঁইছড়ি সোলতানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ববিতা দাশ জানান, গত ১৪ জানুয়ারি গভীর রাতে বিদ্যালয়ের দরজার তালা ভেঙে তিনটি ল্যাপটপ, দুটি প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম, আইপিএস ব্যাটারি ও ব্রডব্যান্ড রাউটার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলার পুঁইছড়ি ছোবহানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাস্টার নজির আহমদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডা. ইউনুছ আকতার চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বড়ঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব গুনাগরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শেখেরখীল কমিউনিটি হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলায় মোট ১৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৫৪টিতে কামদপ্তরি-নৈশপ্রহরী রয়েছে। তবে যেসব বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী রয়েছে, সেখানেও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চোরেরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা ভেঙে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, টেবিল ফ্যান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তার, হারমোনিয়াম, সাউন্ড সিস্টেম, প্রিন্টার, ওয়াইফাই রাউটার, আসবাবপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।
বাঁশখালী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান আল মামুন বলেন, ‘উপজেলার ১৬০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে আমাদের প্রাপ্ত তথ্যমতে সাতটিতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় ছয়টি সাধারণ ডায়েরি ও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
বাঁশখালী থানার ওসি (তদন্ত) শুধাংশু শেখর হালদার বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী না থাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরী রয়েছে, সেখানেও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুরির ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে, তবে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে যাচ্ছে।’


