তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন আকারে পাসের দাবি জানিয়েছে আহছানিয়া মিশন ইয়ূথ ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিয়িং।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি’২৬) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ‘তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আধ্যাদেশ ২০২৫ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন আকারে পাশ করুন’ শীর্ষক সমাবেশে এমন দাবি জানায় তারা। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইউল্যাব, ইষ্ট-ওয়েস্ট, এআইইউবি, সাউথ-ইস্ট, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে ১৫ বছরের ওপরে ধূমপায়ীর সংখ্যা শতকরা ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং এর নিচে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ শিশুই ধূমপায়ী। বিপুল এই জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫-কে আইনে রুপান্তর করা জরুরী।
অনুষ্ঠানে তরুণ বক্তারা বলেন, তামাক ব্যবহার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপ্রবণ কারণ। বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় দুই লক্ষ মানুষের মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান আইনকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে সংশোধিত অধ্যাদেশে স্মোকিং জোন, সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহন ধূমপান নিষিদ্ধ, ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (HTP)সহ বিভিন্ন ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নিকোটিন পাউচকে প্রথমবারের মতো তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এই অধ্যাদেশকে আসন্ন সংসদে পাস হলে দেশের তরুণসহ সকল জনগোষ্ঠীকে তামাকের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৪৮ শতাংশ তরুণ প্রজন্ম। এর মধ্যে ৯.২ শতাংশ তরুণ তামাক ব্যবহার করে। অধ্যাদেশ পাস হলে তরুণদের মাঝে তামাক ব্যবহার এবং তামাকজনিত অকাল মৃত্যুর হার কমে আসবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং কমবে পরিবেশগত ক্ষতিও।
এছাড়াও তামাকের বিজ্ঞাপন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ এবং প্যাকেটে ৭৫ শতাংশ সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযোজনের মতো উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
এ সময় আগামী সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকার জনস্বাস্থ্য ও আগামী প্রজন্মের কথা মাথা রেখে দ্রুত এই অধ্যাদেশটিকে আইনে আকারে পাশ পরিণত করার পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)‘র পূর্ণ বাস্তবায়নেরও দাবি জানায় তরুণরা।


