আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত-ইসলামীর ভোটের লড়াই। বিভিন্ন জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জনপ্রিয়তার বিচারে বিএনপি সামান্য এগিয়ে থাকলেও জামায়াত-ইসলামীও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে নির্বাচন ঘিরে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ভোটসমীক্ষায় দেখা যায়, ভোটার সমর্থনের দিক থেকে বিএনপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে। বিভিন্ন জরিপে দলটির জনপ্রিয়তা ৩০ শতাংশের কিছু বেশি বলে উঠে এসেছে। অন্যদিকে জামায়াত-ইসলামীর সমর্থনও খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের জনপ্রিয়তা প্রায় সমান মাত্রায় রয়েছে বলে জরিপগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অনির্ধারিত ভোটারের সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য হওয়ায় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে এই ভোটাররাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, বিএনপি নিজস্ব শক্তি ও বিস্তৃত ভোটব্যাংকের ওপর ভর করে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির নেতৃত্ব মনে করছে, তারা এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে জামায়াত-ইসলামীও সংগঠন শক্তিশালী করা, তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসূচি বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট অঞ্চলে ভোটভিত্তি সুসংহত করার কৌশল গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে বিএনপি ও জামায়াত রাজনৈতিকভাবে কখনো জোটবদ্ধভাবে কাজ করলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের মধ্যে দূরত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে কিংবা পরে জোট রাজনীতি নিয়ে দুই দলের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে পর্যবেক্ষকদের মত। এমন পরিস্থিতি ভোটারদের মনোভাব এবং ভোটদানের হারকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সার্বিক বিশ্লেষণে বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনপ্রিয়তার বিচারে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও জামায়াত-ইসলামী খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অনির্ধারিত ভোটারদের অবস্থান এবং নির্বাচনের সময়কার রাজনৈতিক পরিবেশই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।


