চট্টগ্রামের রাউজানে একটি বৌদ্ধ বিহারে দুর্বৃত্ত কর্তৃক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কিছু সামগ্রী পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (১১ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য চন্দন বড়ুয়া।
থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের আবুরখীল গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার পাড়া এলাকায় অবস্থিত সংঘরাজ বিহারের বুদ্ধ মূর্তির সামনে স্থাপিত নিরাপত্তা বেষ্টনীতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে প্লাস্টিকের নেট ও কাঠ দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা বেষ্টনী, কিছু ছবি ফ্রেম, বই, বসার পাটি, মাদুর ও ক্যালেন্ডার আগুনে পুড়ে যায়।
বিহারে অবস্থানরত ভিক্ষু শ্রদ্ধাপাল আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। এদিকে সংবাদ পেয়ে নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মামুন ও এএসআই সানু মং মার্মার নেতৃত্ব পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়াও স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরমান হোসাইন, সাবেক চেয়ারম্যান নসরুল্লাহ চৌধুরী লালু, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি অঞ্চল কুমার তালুকদার, স্থানীয় ইউপি সদস্য দিবস বড়ুয়া, সহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বিহারের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধাপ্রিয় ভিক্ষু বলেন, আমি ভোর চারটার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি বিহারে আগুন জ্বলছে। আমি বালতি নিয়ে আগুন নিভাতে চেষ্টা করি। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। আমি কাউকে দেখি নি। তবে, পায়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সপ্তাহখানেক পূর্বে চুরির ঘটনাও ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, আমি বিগত চার বছর ধরে বিহারে একা থাকি। ইতোপূর্বে কখনও এমন ঘটনা দেখি নি। আমি সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাই।
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, ঘটনাস্থলে আমাদের অফিসার গিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


