সর্বশেষ

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে হ্যান্ডলিংয়ের নয়া রেকর্ড, ২৪ ঘণ্টায় ৫৭০৯ কন্টেইনার খালাস

মোঃ নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম:

দক্ষ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার হাত ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে অভূতপূর্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। টার্মিনালটির ইতিহাসে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে অগ্রগতির এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ০৮:০০ ঘটিকা থেকে আজ ১ মে ২০২৬ সকাল ০৮:০০ ঘটিকা পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় এনসিটিতে মোট ৫,৭০৯ টিইইউস (TEUs) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। এটি এনসিটির ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড।

সিডিডিএল এনসিটির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা এই সাফল্যের পেছনে বেশ কিছু মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন:

আধুনিক অপারেশনাল কৌশল: আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ।

নিবিড় তদারকি: চব্বিশ ঘণ্টা কাজের সুশৃঙ্খল তদারকি।

সমন্বিত ব্যবস্থাপনা: নৌবাহিনীর দক্ষ নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের সমন্বয়।

শৃঙ্খলা ও গতি: টার্মিনাল এলাকার যানজট নিরসন ও দ্রুত কন্টেইনার সরানোর ব্যবস্থা।

“এই অর্জন কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সিডিডিএল-এর পেশাদারিত্ব এবং সক্ষমতার অনন্য স্বাক্ষর।”

রেকর্ড গড়লেও এনসিটির অপারেশনাল সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি যেমন, রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন, ফর্কলিফটার, কন্টেইনার হ্যান্ডলার ও মোবাইল ক্রেন অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক ট্রেইলার সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অকার্যকর এসব যন্ত্রপাতি দ্রুত সংস্কার বা প্রতিস্থাপন করা গেলে এনসিটির হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বর্তমানের চেয়েও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। এনসিটিতে হ্যান্ডলিংয়ের এই গতিশীলতা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও ত্বরান্বিত করবে। এর ফলে জাহাজ জট কমবে এবং ব্যবসায়িক খরচ হ্রাস পাবে, যা সরাসরি জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা