নিউজ ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে এক বিস্তৃত কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সফরের অংশ হিসেবে কাতারে লাখো কোটি ডলারের চুক্তি সম্পন্ন করে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পথে রওনা হয়েছেন। সফরের শুরুতে সৌদি আরবে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়।
কাতারে পৌঁছে বিলাসবহুল লুসাইল প্রাসাদে দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। পরে হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই চুক্তির মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ ও মার্কিন বোয়িং কোম্পানির মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বিমান ক্রয়ের চুক্তি অন্যতম। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৭৭ এক্স সিরিজের ২১০টি উড়োজাহাজ কিনবে কাতার। পাশাপাশি, কাতারের আল উদিদ বিমানঘাঁটি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা খাতে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে ট্রাম্পের সিরিয়া সংক্রান্ত ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক ভূরাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে। ২৫ বছর পর সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকের আগে সিরিয়ার ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। রিয়াদে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারারের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
এই বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, “আমরা সিরিয়াকে একটি নতুন সূচনা দিতে চাই।” তিনি আরও জানান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হোয়াইট হাউজের আরও এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ট্রাম্প সিরিয়াকে আব্রাহাম চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আইএস বন্দিশিবিরগুলোর দায়িত্ব গ্রহণেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের উপসাগরীয় চারদিনের সফরের শেষ দিন তিনি আবুধাবিতে পৌঁছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হবেন।


