নিউজ ডেস্ক : আজ শেষ হতে যাচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ। তবে এখন পর্যন্ত দু’দেশের প্রশাসনের তরফ থেকে চুক্তির মেয়াদ নবায়নের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। এতে করে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দু’দেশের সামরিক মহাপরিচালকদের মধ্যে শিগগিরই একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় ও স্থান এখনও নিশ্চিত করেনি কোনো পক্ষই।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৭ মে পাকিস্তান ভূখণ্ডে ভারত “অপারেশন সিন্দুর” নামের সামরিক অভিযান শুরু করে, যার জবাবে পাকিস্তান “অপারেশন বেনিয়ান-উন-মারসুস” চালায়। চারদিনব্যাপী এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যুদ্ধবিরতিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু পশ্চিমা দেশ। এখনো দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও সংলাপের উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে তারা। গত শনিবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানান, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা ও ভবিষ্যৎ সংলাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যুক্তরাজ্য।
এদিকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গত শুক্রবার জানান, “অপারেশন সিন্দুর এখনও শেষ হয়নি,” যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা আবারও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, “আমরা শান্তি চাই। আমরা শত্রুদের শিক্ষা দিয়েছি, কিন্তু আগ্রাসনের নিন্দা জানাই। আমরা চাই দক্ষিণ এশিয়া হোক শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণভাবে দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বিশ্ববাসীও তাকিয়ে আছে, দুই প্রতিবেশী জাতি কীভাবে তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা ঠিক করে।


