সর্বশেষ

বিএনপি সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ইশরাক ও সাম্য ইস্যুতে

নিউজ ডেস্ক : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলর ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানো এবং ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারকে চাপের মুখে ফেলতে কৌশলগত আন্দোলনে নেমেছে বিএনপি। দলের অভ্যন্তরে একাধিক বৈঠক থেকে উঠে আসা তথ্য বলছে, বিএনপি এসব ইস্যুকে সামনে রেখে আন্দোলনে গতি আনতে এবং জাতীয় নির্বাচনের দাবিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায়।

গতকাল গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই কর্মসূচির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র নেতারা। জানা গেছে, আজ (বুধবার) থেকে বিএনপি এই দুটি ইস্যুতে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচিতে আরও জনসম্পৃক্ততা বাড়াবে।

এর আগে সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও নির্বাচন, ইশরাক-সাম্য ইস্যু ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা হয়। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই বৈঠকে নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের পথে থাকলেও এখনো নির্বাচন নিয়ে কোনো রোডম্যাপ না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “আমরা সরকারকে সময় দিচ্ছি, সুযোগ দিচ্ছি। তবে এই ধৈর্য অনন্তকাল নয়।” তিনি জানান, ধাপে ধাপে আন্দোলনের চাপ বাড়ানো হবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন পক্ষ হঠাৎ হঠাৎ আন্দোলনে নামায় মাঠে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিএনপি মনে করে, এতে করে একটি কৌশলগত বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, যার পেছনে সরকারের ভিতরের কোনো চক্রও থাকতে পারে।

এদিকে, এনসিপি নামের একটি ছাত্ররাজনৈতিক সংগঠনের নানা দাবিতে রাজপথে সক্রিয় হওয়া নিয়েও বিএনপির ভেতরে সন্দেহ রয়েছে। দলের আশঙ্কা, রাষ্ট্রপতি অপসারণ, সংবিধান সংশোধন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এসব পক্ষ ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতাল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের নেতাদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে এখন কালো ছায়া দেখা যাচ্ছে। ষড়যন্ত্র রুখতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সরকারের ভেতরের একটি অংশ এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক মহল এ কাজে জড়িত।”

বৈঠকে বিএনপি নেতারা এও বলেন, একটি বিশেষ দলকে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকারের ভেতরের একটি প্রভাবশালী অংশ নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায়। এতে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়তে পারে। বৈঠকের শুরুতে আওয়ামী লীগ ত্যাগী নেতাদের বিএনপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব উঠলেও নেতারা এতে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। সবমিলিয়ে, বিএনপি ধাপে ধাপে রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে নির্বাচন ঘিরে সরকারের ওপর সর্বাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে চায়, তবে সহিংস সংঘাত এড়িয়ে কৌশলগত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দিকেই ঝুঁকছে দলটি।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা