নিউজ ডেস্ক : টানা সংঘাত ও উত্তেজনার পর অবশেষে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। যুদ্ধবিরতির দুই দিন পর, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, চলমান সংঘাতে ‘ইরানই বিজয়ী হয়েছে’।
নিজ বার্তায় খামেনি বলেন, ‘প্রতারণাপূর্ণ জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজয় উপলক্ষে আমি দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’ তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, তিনি শিগগিরই জাতির উদ্দেশে একটি বিস্তারিত ভাষণ দেবেন।
উল্লেখ্য, ১২ জুন রাতে ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানসহ ইরানের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েলের দাবি ছিল, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। পাল্টা জবাবে ইরানও একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
সংঘাতের তীব্রতা তখন আরও বাড়ে, যখন ২২ জুন মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। মার্কিন বিমান বাহিনী ‘দ্য মিডনাইট হ্যামার’ নামের অভিযানে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো এই হামলায় আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে।
পরিস্থিতি সংকটময় হয়ে উঠলেও দুই পক্ষ পরে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এমন প্রেক্ষাপটে আয়াতুল্লাহ খামেনির এই বিজয় ঘোষণাকে কেবল সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি একদিকে যেমন দেশবাসীর মনোবল চাঙা করতে ভূমিকা রাখবে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করতে চায় তেহরান। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই বার্তা ভবিষ্যতের ভূরাজনীতিতে ইরানের কৌশলগত অবস্থান এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলনও হতে পারে।


