দেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশে পরিণত করতে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান আপোষহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা।
শনিবার (৯ আগস্ট) বাদ জোহর রাজধানীর কাফরুলের বাইশটেকির রাহাত হোসাইন হাফিজি মাদ্রাসা ও ইয়াতিম খানায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানটি আমীরে জামায়াতের সুস্থতা কামনায় এবং ইয়াতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
আব্দুর রহমান মূসা বলেন, ১৯ জুলাই জাতীয় সমাবেশে বক্তৃতাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েও ডা. শফিকুর রহমান দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছেন। অসুস্থতার মধ্যেও তিনি দাঁড়িয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন, যা প্রমাণ করে তিনি জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে শাসকগোষ্ঠী জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন না করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যস্ত থেকেছে। কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের কারণে দেশের প্রতিটি নবজাতক জন্ম নিচ্ছে ৭৫ হাজার টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে।
জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে নির্বাচিত এমপিরা সরকারি প্লট, শুল্কমুক্ত গাড়ি বা বাড়ি নেবেন না। দল দুর্নীতি করবে না এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেবে না। দেশের ৮৫ শতাংশ পরিশ্রমী মানুষকে অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং সকল বৈষম্য দূর করতে কাজ করবে জামায়াত।
শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে বহু স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ হলেও একটি মাদ্রাসাও সরকারীকরণ করা হয়নি, ফলে অনেক শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে বৈষম্য দূর করে দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাফরুল উত্তর থানা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক এবং মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার। আরও বক্তব্য রাখেন মাদানী কমপ্লেক্সের সহ-সভাপতি শাহজাহান, থানা নায়েবে আমির মো. আলাউদ্দীন, জামায়াত নেতা মাওলানা শহিদুল্লাহ মাদানী, মাওলানা রফিকুল ইসলাম ও মনিরুজ্জামান খান প্রমুখ।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাদানী কমপ্লেক্সের মুহতামিম মাওলানা আবুল কালাম, যেখানে আমীরে জামায়াতের আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।


