পাকিস্তানে টানা বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০৬ জনে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানায়, ২৬ জুন থেকে এখন পর্যন্ত বন্যা ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হয়েছে আরও ৯৬৫ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে অন্তত ২৪ জন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাইবার-পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশ, যেখানে একাই ৪২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বুনের জেলাতেই প্রাণহানি ঘটেছে ২২২ জনের। টানা বর্ষণ ও মেঘফাটলের কারণে ওই জেলা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া পাঞ্জাবে মারা গেছে ১৬৪ জন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ৫৬ জন, সিন্ধে ২৯ জন, বেলুচিস্তানে ২২ জন এবং ইসলামাবাদে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সোয়াবি, নওশেরা, মারদান, পেশোয়ার, বাজউর, সোয়াত, বাত্তাগ্রাম, মানসেহরা, শাংলা, দির আপার, দির লোয়ার ও তোরঘরসহ একাধিক জেলা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৭৮০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে ৩৪৯টি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে।
সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করেছে। ইতোমধ্যে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে স্থানীয়দের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।


