বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতীক পাওয়ার পর প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিজ নিজ আসন থেকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৪১ জন। এর মধ্যে সাতজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকছেন ৩৬ জন প্রার্থী। এসব আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি, বাসদ এবং স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে প্রতীক পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন কর্মী-সমর্থকরা। এতে করে পুরো বরিশালজুড়ে নির্বাচনী আমেজ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। তবে প্রতীক নিতে আসা কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করেন, নির্বাচনে এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পুরোপুরি তৈরি হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে। বিভিন্নভাবে নেতা-কর্মীদের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগও তুলে ধরেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং সবাইকে আইন মেনে প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বরিশালের রাজপথ ও জনপদে বাড়ছে ভোটের উত্তাপ। প্রতীক হাতে পেয়ে এবার মাঠে নামতে প্রস্তুত জেলার ছয়টি আসনের সব প্রার্থী।
এছাড়া গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে বরিশাল মহানগরীর রিফিউজি কলোনীতে দুই পক্ষের আধিপত্য প্রদর্শনের সময় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এ সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে এক পক্ষ দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, স্থানীয় দুইটি পক্ষ মাদক ও ছিনতাইয়ের সিন্ডিকেট চালায়। তাদের রক্ষার জন্য প্রায়শই নিজেদের মধ্যে অস্ত্র মহড়া দিয়ে বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করে রাখে। পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সড়ক পথ ছাড়াও নৌপথে বরিশালের অন্তত দশটি স্থানে অস্ত্র সরবরাহ হচ্ছে। নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে শহরের কীর্তনখোলা নদীর তীর লাগোয়া রসুলপুর, মোহাম্মদপুর ও পলাশপুর এলাকায় এসব অস্ত্র মজুত হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা রিপন জানান, রাতের শেষ দিকে লবণবোঝাই ও মাছের ট্রলারে পিস্তল, দা ও মাদক নিয়ে আসা হয়। পরে তা মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয় একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র।
শহরের বেলতলা খেয়াঘাট এলাকার ষাটোর্ধ্ব হারিছ উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নদীর তীর ধরে মাদক কেনাবেচার পাশাপাশি সন্দেহজনক ট্রলারের আনাগোনা দেখা যায়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগরের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর সারা দেশের থানা থেকে যে অস্ত্র লুট হয়েছে তার বৃহৎ অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকে, কিন্তু এবারের নির্বাচনে আগ মুহূর্তে সেই তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না, যা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বরিশালের কোনো থানায় অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেনি। মহানগরীর চার থানা এলাকার যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় আমরা তৎপর রয়েছি।


