সর্বশেষ

বাঁশখালীতে জিয়াউর রহমানের খননকৃত চেচুরিয়া খাল দখলমুক্ত, স্বস্তি জনজীবনে

শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৈলছড়ি ইউনিয়নের ঐতিহাসিক চেচুরিয়ার ‘আদর্শ গ্রাম খাল’ দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে এনেছে উপজেলা প্রশাসন। ১৯৭৭-৭৮ সালে মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খনন করা এ খালটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষি, জীবিকা ও জলনিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ ও অপরিকল্পিত মাছ চাষের কারণে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে জলাবদ্ধতা, কৃষি ক্ষতি এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ রাতে শফিকুর রহমান (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে খালের ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণ এবং এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কাটার সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি খালটিকে বিভক্ত করে মাছ চাষের পরিকল্পনা করছিলেন। এ অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে একই আইনের ১৫(১) ধারায় তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

পরদিন ৩০ মার্চ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ওমর সানী আকন অভিযান পরিচালনা করে খালজুড়ে শতাধিক ছোট-বড় অবৈধ বাঁধের অস্তিত্ব শনাক্ত করেন। তদন্তে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট প্লট তৈরি করে ঝাঁক বসিয়ে মাছ চাষের অপচেষ্টা চলছিল, যা খালের স্বাভাবিক জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছিল এবং বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছিল।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ৩০ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত টানা তিনদিন অভিযান চালিয়ে খালের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ বাঁধ ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এর ফলে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয় এবং স্থানীয় পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, এই খাল দিয়ে বৈলছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি জলকদর খাল হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। ফলে খালটি সচল থাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমবে এবং কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। পরিবেশবিদদের মতে, প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার সংরক্ষণ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সচেতন মহল সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা