১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের শিক্ষা সেক্টরের ডিআইসি ও নাইট শেল্টার প্রকল্পের আয়োজনে মিশনের প্রধান কার্যালয়ে ‘ন্যাশন্যাল লানিংস শেয়ারিং মিটিং’ শীর্ষক সভার আয়োজন করা হয়। পথশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি বেসরকারি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের যুগ্ন সচিব মোঃ ফিরোজ উদ্দিন খলিফা। সভায় উদ্দেশ্য ও ফলাফলের আলোকে দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য প্রদান করেন এডুকেশন এন্ড টিভিইটি সেক্টরের জয়েন্ট ডিরেক্টর মো. মনিরুজ্জামান। পথশিশুদের কার্যক্রমের অগ্রগতি, শিখন ও সম্ভাবনা উপস্থাপনা করেন ডাম শিক্ষা সেক্টরের কোআরডিনেটর এমএন্ডই শেখ শফিকুর রহমান। প্রেজেনটেশনের পরে মুক্ত আলোচনা করা হয়, যেখানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিবৃন্দ তাদের মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। মুক্ত আলোচনায় পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুরা তাদের সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা ও চাওয়া তুলে ধরে।
অতিথিবৃন্দের বক্তব্যে ডামের ভাইস প্রেসিডেন্ট (কর্মসূচি) বলেন, সমাজসেবা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের সাথে সমন্বিতভাবে আমরা পথশিশুদের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। পথশিশুদের পড়ালেখার সকল দ্বায়িত্ব নিয়ে আমরা শিশুদের উন্নয়ন করতে চাই। সকল পথশিশুদের ডেটাবেজ করতে পারলে, তাদের উন্নয়ন সহজ হবে। বিশেষ অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের যুগ্ন সচিব মোঃ ফিরোজ উদ্দিন খলিফা বলেন, শিশুদের মুক্ত মনে চিন্তা করতে দিতে হবে। পথশিশুরা আমাদের বোঝা নয়। আমরা শিশুদের সম্পদে পরিবর্তন করতে চাই। পথশিশুদের উন্নয়নে আমাদের কোনো পলিসি নেই। উন্নয়ন সংস্থাগুলো আমাদের মন্ত্রাণালয়কে পথশিশুদের অভিভাবকত্ব পলিসি নিয়ে সুপারিশমালা দিতে পারে। প্রধান অতিথি এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া বলেন, এনজিও ব্যুরো প্রতিবছর প্রায় আটহাজার কোটি টাকার বৈদেশিক অনুদান অনুমোদন দেয়। এই অনুদান সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। পথশিশুদের উন্নয়নে তাদের চাহিদামাফিক উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুদের অধিকার নিশ্চিতকরণে জন্ম-নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ, তাই জন্ম-নিবন্ধন সহজ করতে হবে। পথশিশুদের উন্নয়নে এনজিও-বিষয়ক ব্যুরো যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম রহমান বলেন, লানিং শেয়ারিং সভায় সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ ও মাঠ পর্যায়েয় কর্মীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ, আলোচনা ও মতামতের মাধ্যমে ডিআইসির গুণগত দিকসূমহের উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা যায়। একইসাথে প্রকল্প এলাকার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও তাদের সেবাসমূহ প্রাপ্তি, কেন্দ্র পরিদর্শন ও মনিটরিং জোরদার, সুষ্ঠুভাবে কেন্দ্র পরিচালনা জন্য ভবিষ্যত কর্মসম্পর্ক তৈরি হবে।
উল্লেখ্য যে, ডাম শিক্ষা সেক্টরের ডিআইসি প্রকল্প ঢাকা শহরে দুটি ড্রপ ইন সেন্টারের মাধ্যমে ৮০০ শিশুকে তালিকাভুক্ত করে বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করছে। প্রত্যেক শিশুকে আলাদাভাবে বিবেচনায় এনে তাদের উপযোগী সহায়তা প্রদানের জন্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। শিশুর অগ্রগতি পর্যালোচনা ও সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে শিশুদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা, নাইট শেল্টার সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।


