দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অবস্থান নির্ধারণে বিতর্কিত রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম বিষয়ক মামলার শুনানির অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৪ নভেম্বর বিষয়টি ফের শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আবেদনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন ও অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। ইন্টারভেনর হিসেবে অংশ নেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ৬৯ জন আইনজীবীর পক্ষে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রের পক্ষে আদালতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
আইনজীবী সালাউদ্দিন দোলন জানান, “রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম সংবেদনশীল একটি বিষয়। আদালতও এর গুরুত্ব বিবেচনা করে পুনরায় শুনানির সুযোগ দিয়েছেন।”
রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম বা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স প্রথম প্রণয়ন করা হয় ১৯৮৬ সালে এবং সংশোধিত হয় ২০০০ সালে। তবে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট সংশোধিত তালিকা বাতিল করে আট দফা নির্দেশনা দেয়।
পরে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আপিল বিভাগ রায়ে জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচারকদের সচিবদের সমমর্যাদায় উন্নীত করে। ওই রায়ে স্পষ্ট করা হয়, পদমর্যাদাক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে, নীতি নির্ধারণ বা প্রশাসনিক কার্যক্রমে নয়।
এরপর বিষয়টি নিয়ে পুনরায় রিভিউ শুনানি চলে ২৭ এপ্রিল থেকে ৩০ জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত। সর্বশেষ তা আবার আপিল পর্যায়ে ওঠে। সবশেষ আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে।


