সর্বশেষ

ইসরাইলি হামলায় গাজায় আরও ৭১ জন নিহত : সহায়তা কেন্দ্রগুলো ‘মৃত্যুর ফাঁদ’

নিউজ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের টানা বিমান ও স্থল হামলায় আরও অন্তত ৭১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। শুক্রবার আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া সহায়তা নেওয়ার জন্য অপেক্ষারত অনেক মানুষ হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানায় আল জাজিরা। এর আগের দিনও গাজায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৭৯ জন নিহত হন। গাজা সরকারের তথ্যমতে, বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে গত এক মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৪৯ জন। সংস্থাটির মতে, এই সহায়তা কেন্দ্রগুলো এখন “মৃত্যুর ফাঁদ”-এ পরিণত হয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব হামলার ঘটনায় এখনও ৩৯ জন ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির বৃহস্পতিবার গাজায় সব ধরনের মানবিক সহায়তা পুরোপুরি বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর জন্য কোনো সহানুভূতির স্থান নেই।” সহায়তা কার্যক্রমকে তিনি “ইসরাইলের জন্য লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করেন। ইসরাইলের এই কড়া অবস্থানের ফলে ইতোমধ্যে দুই দিনের জন্য গাজায় সহায়তা সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর গাজামুখী সহায়তা করিডোরগুলোও বৃহস্পতিবার বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। এতে করে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে থাকা লাখো মানুষের জন্য সহায়তার প্রবেশপথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে গাজায় আটক থাকা ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে তেল আবিবে বিক্ষোভে নামেন তাদের পরিবার। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বর্তমান ইসরাইল সরকারকে যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে তাদের স্বজনদের ‘বলি’ দেওয়া হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার মাধ্যমে শুরু হয় ইসরাইল-গাজা সংঘাত। ওই হামলায় ইসরাইলে ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। তারপর থেকেই গাজায় চলমান ইসরাইলি অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫৬ হাজার ২৫৯ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৮ জন এমন তথ্য দিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা