নিউজ ডেস্ক : ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে সৃষ্টি হওয়া যুদ্ধাবস্থার উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত প্রশমিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগে। যদিও কিছুদিন আগেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ তাদের দেখার বিষয় নয়, কিন্তু সেই তিনিই শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির অন্যতম কৌশলী ভূমিকা পালন করেছেন। কেন এমন হঠাৎ পরিবর্তন? সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, সবকিছুর পেছনে ছিল ‘ভীতিকর’ এক গোয়েন্দা তথ্য, যা দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের সংঘর্ষকে বিশ্বজুড়ে সংকটে পরিণত করতে পারত।
সিএনএন জানায়, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্তারা ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং চিফ অব স্টাফ মিলে পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা একটি ভয়াবহ তথ্য পান, যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির ইঙ্গিত দেয়। এরপরই ভ্যান্স ফোন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।
ফোনালাপে ভ্যান্স মোদিকে স্পষ্ট জানান, সপ্তাহান্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। তিনি মোদিকে আহ্বান জানান, যেন পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেন এবং উত্তেজনা প্রশমন করেন। সেইসঙ্গে ভ্যান্স একটি বিকল্প সমাধানের পথও তুলে ধরেন, যা পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও গ্রহণযোগ্য বলে ইঙ্গিত মেলে।
এই ফোনালাপের পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভারত ও পাকিস্তানের কূটনীতিকদের সঙ্গে সারারাত কথা বলে। যদিও তারা সরাসরি কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেনি, তবে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মোদির সঙ্গে ভ্যান্সের ফোনালাপকে মার্কিন প্রশাসন মনে করছে পুরো প্রক্রিয়ার একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য মতে, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা হয়ে ওঠে সেতুবন্ধনের মতো। এই মাধ্যমেই দুই পক্ষের কাছে সম্ভাব্য সমাধান ও বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়, যা অবশেষে আলোচনার টেবিলে দুই দেশকে নিয়ে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্স ও মোদির মধ্যকার ইতিবাচক ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পূর্বের ভারত সফরের অভিজ্ঞতা এই কূটনৈতিক উদ্যোগে বড় প্রভাব ফেলেছে।


