সিগারেট কোম্পানিগুলো যুবকদের ধূমপানে আকৃষ করতে রেষ্টুরেন্টএ ধূমপানের স্থান তৈরি, বিক্রয়স্থলে বিজ্ঞাপন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনসহ, নিষিদ্ধ ইসিগারেট প্রসারে নানা কার্যক্রম করছে। বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো ভোক্তা ও মুনাফা বাড়াতে রাষ্ট্রীয় আইন ভঙ্গ করে কিশোর-তরুণদের ধূমপানের নেশায় আসক্ত করার কুটকৌশল প্রতিরোধে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার দাবি জানালো সাইকেলিস্টরা। আজ ১০ অক্টোবর ২০২৫ (শুক্রবার) সকালে মানিক মিয়া এভিনিউ এ মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) আয়োজিত ‘ইয়ুথ ফর হেলথ্: টাইম টু স্ট্রেনথদেন টোব্যাকো কন্ট্রোল ল’ শীর্ষক সাইকেল র্যালীতে এই দাবি জানিয়েছে অংশগ্রহনকারীগন।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭১ শতাংশ খরচ বহন করতে হয় নাগরিকদের। বাংলাদেশ প্রায় ৭০ শতাংশ অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ব্যবহার। বাংলাদেশে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য অংশের জনগণ বয়সে তরুণ। এই তরুণদের স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনের সুযোগ না দেয়া যায়, তাহলে আগামী দিনে অর্থনীতি ও দেশ দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। এজন্য সচেতনতা ও শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিদ্যমান ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু, তামাক কোম্পানিগুলো নানাভাবে এর বিরোধীতা করছে।
মানস আয়োজিত র্যালিতে বিডি সাইকেলিস্ট, মোহাম্মদপুর সাইকেলিস্ট এবং হেমন্ত রাইডাস সাইকেলিস্ট গ্রুপের সদস্যগন,ভাইটাল স্ট্র্যাটেজি এর ম্যানেজার টোব্যাকে কন্ট্রোল প্রোগ্রাম এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ কাযক্রম বাস্তবায়নকারি ডব্লিউবিবি ট্রাষ্ট্র, ডাস, নাটাব এবং গ্রাম বাংলার প্রতিনিধি অংশগ্রহন করেন।
মানস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী’র সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন আইনজীবি ও নীতি বিশ্লেষক এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম, জনস্বাস্থ্য বিশেষ্ণগ আমিনুল ইসলাম সুজন, ডব্লিউবিবি ট্রাষ্ট্রের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান, মোহম্মাদপুর সাইকেলিস্ট এর সদস্য ফয়সাল ইসলাম,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইকেলিস্ট গ্রুপের সদস্য প্রসেন্জিত বিশ্বাস। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন মানসের প্রকল্প সমন্বয়কারী উম্মে জান্নাত এবং সিনিয়র প্রজেক্ট ও কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হান।
সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, সরকার অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে আন্ত:মন্ত্রণালয় সমন্বয় সাধনে কাজ করছে, যা প্রসংশনীয় উদ্যোগ। কিন্তু, অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ তামাক সেটা ভুলে গেলে চলবে না। তামাকের বিস্তার ও তামাক কোম্পানিগুলোকে মানুষের রোগ, ভোগান্তি, মৃত্যু এবং রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতির জন্য শাস্তি ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, আমাদের তরুণদের মাঝে তামাক এর ক্ষতি সম্পকে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং সকল স্তরে এই বিষয়ে প্রচারনা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সাথে আইনটি শক্তিশালী করার পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, কিশোর-তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়ছে, যার শুরুটা হয় ধূমপান দিয়ে। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তরুণদের সচেতন করতে, সুরক্ষিত রাখতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। কিন্তু, সব প্রচেষ্টায় বাধা আসছে। তাই এখন আর তামাক কোম্পানিগুলোকে কোন ছাড় দেয়া যাবে না কারণ, তারা আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
উল্লেখ্য প্রতিবছর দেশে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১,৬১০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে এবং তামাক দিয়ে নেশার জগতে ঝড়ছে তরুণ সম্ভাবনা। মৃত্যুর মিছিল রুখতে ও তরুণদের জন্য আগামীর স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়তে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার কোন বিকল্প নেই।


