রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে মাত্র সাড়ে ছয় বছরের শিশু জাবির ইব্রাহিম। পরিবারের ১২তম সন্তান জাবির এ বছরের মে মাসে ৭ বছরে পা দিলেও জন্মদিনে আর কোনোদিন কেক কাটা বা বেলুনে রঙ ছড়ানো সম্ভব হয়নি তার।
২০১৮ সালে উত্তরায় জন্ম নেয় জাবির। বড়বোন জুমাইনা কবির নেহা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী, মেঝোভাই জুহায়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট জাবির এ বছরের জানুয়ারিতে ভর্তি হয়েছিল কে.সি. মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ইংরেজি ও গণিতে তার প্রবল ঝোঁক ছিল। ইন্টারভিউতে ভালো করায় তাকে সরাসরি নার্সারিতে ভর্তি করানো হয়। শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে দ্রুতই প্রিয় হয়ে ওঠে সে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সোমবার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে “লং মার্চ টু ঢাকা”-তে যোগ দিতে পরিবারের সঙ্গে রওনা হয় জাবির। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উত্তরা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে লুটিয়ে পড়ে সে। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিল জাবির—”বাংলাদেশ, বাংলাদেশ”।
জাবিরের বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, “আমার হাত ধরে ছিল সে। পুলিশ টার্গেট করে গুলি করে হত্যা করেছে আমার সন্তানকে।” গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে প্রথমে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে, পরে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে শিশুদের জন্য আইসিইউ না থাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। শেষে ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জাবিরকে মৃত ঘোষণা করেন। বাবার অভিযোগ, চিকিৎসকদের গাফিলতিতেই অকালে ঝরে গেল তার সন্তান।
জাবিরের মা রোকেয়া বেগম বলেন, “আমি কোনো রাজনীতি করি না, আমি তো শুধু মা। আমার চোখের সামনে গুলিতে লুটিয়ে পড়ে আমার সন্তান। আজ আমার কোল খালি হয়ে গেছে।” পরিবারের অভিযোগ, দাফনের সময়ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়। শেষ পর্যন্ত রাত দেড়টায় তাকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে দাফন করা হয়।
জাবিরের বাবা বলেন, “এ রাষ্ট্র আমার সন্তানকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। আমি আমার সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”


