সর্বশেষ

চুয়েটের মুক্তিযোদ্ধা হলে মৌলিক সুবিধার সংকটে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ইপসিতা জাহান সুমা, চুয়েট ক্যাম্পাস প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনির্মিত মুক্তিযোদ্ধা হলে মৌলিক সুবিধার অভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ডাইনিং চালু না হওয়া, বিশুদ্ধ পানির সংকট, ইন্টারনেট সংযোগ ও নিরাপত্তা ঘাটতিসহ নানা সমস্যার মধ্যে থেকেও প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান করছেন।

২০২০ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও হলটি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। চলতি বছরের ২৯ জুন সিট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর জুলাই মাস থেকে শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে শুরু করেন। দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি ডাইনিং। নাস্তার জন্য শিক্ষার্থীদের অন্য হলের ক্যান্টিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ আহামেদ বলেন, “পানির জন্য আমাদের অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করা যায় না। এছাড়া ক্যান্টিন না থাকায় নাস্তার জন্য অন্য হলে যেতে হচ্ছে, যা বড় ভোগান্তি।”

তড়িৎ ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এম এ সাঈদ অভিযোগ করেন, “ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় আমাদের ব্যক্তিগতভাবে মোবাইল ডাটা ব্যবহার করতে হয়, যা ব্যয়বহুল। হলে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় নিরাপত্তাহীনতাও থেকে যাচ্ছে।”

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক কক্ষে এখনো খাট, টেবিল-চেয়ার দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সৌম্যজ্যোতি রায় রোহিত বলেন, “রুমে খাট ও টেবিল না থাকায় পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। রিডিং রুমেও পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নেই।”

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. বিপুল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “নতুন হল হিসেবে কিছু সমস্যা থাকছে। এক-দেড় মাসের মধ্যে ডাইনিং চালু হবে। এর আগে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর চেষ্টা চলছে। পানির সরবরাহ উন্নত করা ও ওয়াইফাই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসবাবপত্র ধাপে ধাপে দেওয়া হচ্ছে, আশা করি দেড়-দুই মাসের মধ্যে সব কক্ষে খাট দেওয়া সম্ভব হবে।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন, মৌলিক সুবিধা না থাকায় হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনের আশ্বাস দ্রুততম সময়ে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা