সর্বশেষ

শিক্ষার্থী-বাস শ্রমিকদের সংঘর্ষে বরিশালে রণক্ষেত্র!

বরিশাল ব্যুরো

প্রায় অর্ধশত বাস ভাংচুর \ বাস চলাচল বন্ধে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

বরিশাল ব্যুরো : হাফ ভাড়াকে কেন্দ্র করে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বরিশাল কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল। শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ২০ থেকে ৩০টি বাস ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল কয়েক ঘণ্টা ব্যাহত হয়। পরে যৌথবাহিনীর উপস্থিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে রোববার সকাল থেকেই এ ঘটনায় প্রায় দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে অনির্দিষ্টকালের জন্য গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।

শিক্ষার্থীদের ভাংচুরে ক্ষতিগ্রস্ত বাস ও টিকিট কাউন্টার।

বরিশাল নথুল্লাবাদ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাদাত হোসেন লিটন বলেন, ‘আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখব। আমাদের যে গাড়িগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অর্ধশত শ্রমিক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে পরে যেন এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় তার নিশ্চয়তা দেয়ার পরই কেবল গাড়ি চলাচল শুরু হবে।’

হঠাৎ পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের অনেকেই বিকল্প হিসেবে মাহিন্দ্রা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং অল্পসংখ্যক ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। তবে এসব পরিবহনে দ্বিগুণ কিংবা তারও বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

অপরদিকে, বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিএম কলেজের আট শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসাধীন ছাত্র আবু বক্কর অভিযোগ করেন, শনিবার তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। রাতে অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ন্যায় বিচার দাবি করেছন ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় রবিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, শনিবার রাতে বাস শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বাস ভাঙচুরের পর মালিক–শ্রমিকরা প্রতিবাদ হিসেবে বাস চলাচল বন্ধ করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সংকট সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চেষ্টা করছেন।

spot_img
spot_img

সর্বশেষ

সময়ের সেরা